একটার পর একটা বড় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের নেশায় এক সময় বাড়িও ছেড়েছেন। নিজের জেলা ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছেন বাংলার নানা প্রান্তে। এমনকি পাড়ি দিয়েছেন প্রতিবেশী রাজ্য আসামেও। মাসের পর মাস যাত্রাভিনয়ই ছিল তাঁর জীবন।
advertisement
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের খাড় গ্রামের রেবতী সিনহা। নামটা আজ অনেকেরই অচেনা। কিন্তু একটা সময় যাত্রা জগতে ছিল পরিচিত মুখ। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান তিনি। এরপর বড় হওয়া দাদুর কাছে। সংসারের অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। তবু অভিনয়ের স্বপ্ন ছাড়েননি। শুরুতে এক টাকা, দু’টাকার বিনিময়ে অভিনয় করেছেন। কোনও দিন পারিশ্রমিক ঠিকমত মেলেনি। কখনও খাবার জোটেনি। তবু মঞ্চ ছাড়েননি। দিন কেটেছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। সেই কঠিন সময় পার করেই ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছিলেন বড় বড় যাত্রা দলে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তাও বেড়েছিল। একের পর এক সফল অভিনয়। বাংলার কোচবিহার, জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে আসামের নানা এলাকায় তাঁর অভিনয় ছড়িয়ে পড়ে। এক সময় তিনি ছিলেন তাঁর যুগের জনপ্রিয় নায়িকা। প্রায় দেড়শোর বেশি যাত্রায় অভিনয় করেছেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব ছিল কাঁধে। বাবা না থাকায় ভাই-বোনদের মানুষ করার দায় পড়েছিল তাঁর উপর। সেই দায়িত্ব পালনে যাত্রাভিনয়ই হয়ে উঠেছিল একমাত্র ভরসা। বেশি আয়ের তাগিদে বারবার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কখনও কোচবিহার, কখনও আবার আসাম। সেই সময়েই তাঁর জনপ্রিয়তা পৌঁছেছিল শীর্ষে।
আজ সেই দিন আর নেই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। বয়সের ভারে মঞ্চে ওঠা আর সম্ভব নয়। আলোঝলমলে যাত্রা মঞ্চ আজ অনেক দূরে। তবে তার অভিনয় দক্ষতা আজও রয়ে গেছে যাত্রাপ্রেমীদের স্মৃতিতে। একটা সময় যিনি যাত্রা জগতের নায়িকা ছিলেন, আজ তিনি যেন হারিয়ে যেতে বসেছেন। রেবতী দেবীর জীবনই প্রমাণ করে দেয়—বাংলার কোণায় কোণায় কত প্রতিভা আজও আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়। জীবন সংগ্রামই যাঁকে সেরা নায়িকার আসনে বসিয়েছিল, সময়ের নিষ্ঠুরতায় আজ তিনি শুধুই স্মৃতি।





