আরও পড়ুনঃ ইনস্টাগ্রাম রিল সেভ করতে গিয়ে বিপদে পড়ছেন? জানুন সঠিক পদ্ধতি
জীবদ্দশায় মা সারদা কলকাতা যাতায়াত করতেন বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে। এজন্য তাঁকে জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াত করতে হত গোরুর গাড়িতে। সেই জয়রামবাটিকে রেলপথে যুক্ত করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০০০- ২০০১ অর্থবর্ষে মা সারদার পবিত্র জন্মস্থান জয়রামবাটি হয়ে বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেলপথ নির্মাণের প্রকল্পের সূচনা করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলপথ নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পে ২০১০ সালে বিষ্ণুপুর থেকে গোকুলনগর ও ২০১২ সালে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত ময়নাপুর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর ভাবাদিঘির জমিজটের কারনে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত থমকে যায় রেলপথ নির্মাণের কাজ। ভাবাদিঘির জমিজট কাটতে ফের সম্প্রতি এই রেলপথ নির্মাণ শুরু হয় ঝড়ের গতিতে। চলতি বছরের মার্চ মাসে এই জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ২৭ মার্চ জয়রামবাটি পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালিয়ে ওই লাইনে ট্রেন চলাচলে সবুজ সংকেত দেয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। এরপরে জোরকদমে শুরু হয় ট্রেন চলাচলের অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরীর কাজ। আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে এসে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা করার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীবাহী একটি ট্রেন মা এর গাঁ হিসাবে পরিচিত জয়রামবাটি স্টেশন থেকে ছেড়ে বাঁকুড়ার উদ্যেশ্যে রওনা দেয়।
advertisement
রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আপাতত এই একটি ট্রেন প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত যাতায়াত করবে। অদূর ভবিষ্যতে এই রেল লাইন তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে সরাসরি হাওড়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এরফলে শুধু এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বদল হবে তাই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনেরও যথেষ্ট বিকাশ ঘটবে। এদিন জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা লগ্নে শুধু জয়রামবাটি গ্রামের মানুষ নয় আশপাশের বহু এলাকার মানুষ এমনকি স্থানীয় বিভিন্ন মন্দির ও মিশনের সাধু সন্যাসীরাও স্বপ্নপুরণের সাক্ষী থাকতে হাজির হয়েছিলেন মাতৃ মন্দিরের আদলে তৈরী সুদৃশ্য জয়রামবাটি স্টেশনে। চোখের সামনে এভাবে স্বপ্ন পূরণ হতে দেখে তাঁরাও যথেষ্ট খুশি।
