মাঞ্জা ঘুড়ির সুতোয় শহর থেকে গ্রাম নানা প্রান্তে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অটো ও টোটো স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা চালকেরা হঠাৎই একটি গাছের ডালে ঘুড়ির মাঞ্জা সুতোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি শালিক পাখিকে প্রাণপণে চিৎকার ও ছটফট করতে দেখেন। পাখিটির আর্ত চিৎকারে চমকে ওঠেন উপস্থিত সকলে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পাখিটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু সুতোয় শক্ত করে জড়িয়ে পড়ায় পাখিটিকে নামানো সম্ভব হচ্ছিল না।
advertisement
আরও পড়ুনঃ সপ্তাহান্তের ছুটির জন্য একদম পারফেক্ট! এই বসন্তে ঘুরে আসুন মদনমোহন মন্দির, কীভাবে যাবেন জানুন
শেষমেশ দমকলে খবর দেওয়া হয়। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ থেকে পাখিটিকে নামিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই শালিক পাখিটির মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় চোখে জল স্থানীয় বাসিন্দাদের। হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত বহু মানুষ মাঞ্জা সুতোর ব্যবহারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও বিপজ্জনক মাঞ্জা সুতো বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না।
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, শালিকের মতো সাধারণ পাখির সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। তার উপর এইভাবে ঘুড়ির সুতোয় জড়িয়ে মৃত্যু আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শুধু পাখি নয়, অতীতে বহু পথচারী ও বাইক আরোহীও মাঞ্জা সুতোর কারণে গুরুতর জখম হয়েছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
হাবরা হাসপাতাল চত্বর এলাকায় প্রতিদিন শয়ে শয়ে শালিক সহ বিভিন্ন ধরনের পাখির আনাগোনা দেখা যায়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের ঘুড়ির সুতো ব্যবহারে আবারও নিরীহ প্রাণ বলি হতে পারে বলে আশঙ্কা। মাঞ্জা সুতোর অবাধ ব্যবহার রুখতে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলছেন ওই এলাকার স্থানীয় মানুষজন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখানে ঘুরি ওড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবিও তোলা হয়। সেক্ষেত্রে পশুপ্রেমীদের তরফে ফাঁকা জায়গা বা মাঠেই ঘুড়ি ওড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।





