গত বছর এই ঘাটগুলির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখতে জলপথ পরিবহণ দফতরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়াররা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তার পরেই পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের জন্য এই পাঁচটি ঘাট চূড়ান্ত করা হয়। পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করা হয়েছে। শুধু ঘাট নয়, ঘাট সংলগ্ন ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধ এলাকার রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও পরিবেশ উন্নয়নের কাজও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ঘাটে গঙ্গা আরতির জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ঘাট সংলগ্ন এলাকায় পার্ক, বসার জায়গা ও পথচারীদের সুবিধার্থে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
advertisement
আরও পড়ুন: চারচাকার ধাক্কায় দুমড়ে গেল আস্ত অটো, ৮ যাত্রীর আর্তনাদে কেঁপে উঠল ফুলিয়া! টায়ার ফেটে বড় বিপত্তি
জলপথ পরিবহণ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘাটগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এক বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের অনুরোধে এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রানি রাসমণি ঘাটের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৮৩ লক্ষ ৯০ হাজার ২৯০ টাকা। পানিহাটি ফেরিঘাটের জন্য ১৫ কোটি ৫২ লক্ষ ৭০ হাজার ৫৫৬ টাকা, খড়দহ ফেরিঘাটের জন্য ৬ কোটি ৫৩ লক্ষ ৩০ হাজার ৫২০ টাকা রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস বলেন, খুব শীঘ্রই রানি রাসমণি ঘাটের চেহারা বদলে যেতে চলেছে। এই ঘাট থেকে ওপারের শ্রীরামপুরের বল্লভঘাটে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। উন্নত পরিকাঠামো হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে জানান, পানিহাটি মহোৎসবতলা ঘাটের একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রায় ৫০০ বছর আগে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই ঘাটে এসেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘাটের চেহারা বদলালে হাজার হাজার মানুষের সুবিধা হবে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন পানিহাটি ও কোন্নগরের মধ্যে জলপথে যাতায়াত করেন বহু মানুষ। খড়দহ পুরসভার চেয়ারপার্সন নীলু সরকার বলেন, খড়দহের শ্যামসুন্দর ঘাট সংলগ্ন ফেরিঘাটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবহণ দফতরের সহযোগিতায় এই ঘাটের উন্নয়ন হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আসবে। পরিবহণ দফতরের এই উদ্যোগে গঙ্গার তীরবর্তী এলাকাগুলির রূপ আরও বদলানোর পাশাপাশি যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।






