কথিত, কাঠের এই পাদুকা দু’টি কয়েকশো বছর আগে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে দিয়ে গিয়েছিলেন স্বয়ং মহাপ্রভু। এর পর শ্রীচৈতন্যদেব সন্ন্যাস নেওয়ার এক বছরের মাথায় শান্তিপুরে এসেছিলেন শচীমাতাকে দর্শনের জন্য। শচীমাতাকে দর্শনের পরই পুরীধামে চলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অচমকা পুরীর যাত্রা বাতিল করে তিনি নবদ্বীপে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শ্রীবাস, গদাধরকে সঙ্গে নিয়ে কীর্তন করতে তিনি নবদ্বীপে চলে আসেন। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী সেই সময় বাড়িতে পুজো করছিলেন। সন্ন্যাসীদের তাঁদের ফেলে আসা পূর্বাশ্রমের স্ত্রীর মুখ দর্শনের নিয়ম নেই। তাই উঠোনে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন মহাপ্রভু। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী ঘর থেকে বার হয়ে স্বামীকে প্রণাম করতে যান।
advertisement
প্রণাম শেষ হতেই বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী দেখেন, এক জোড়া পাদুকা রেখে গিয়েছেন মহাপ্রভু। তবে তাঁর সামনে মহাপ্রভু নেই। ওই দিন রাতে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী স্বপ্নাদেশ পান, জন্মভিটের নিম গাছ থেকে কাঠের বিগ্রহ তৈরি করে পুজো করতে এবং তাঁর সঙ্গে পাদুকাও পুজো হবে। সেই থেকে মহাপ্রভুর পাদুকা পুজো হয়ে আসছে। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ভাইয়ের বংশধররা ওই পাদুকা যুগল সুরক্ষিত রেখেছেন। পাদুকাদ্বয় স্বচক্ষে দর্শন করতে, শান্তিপুরের মানুষ তো বটেই, সকাল থেকে জেলা এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তবৃন্দ এবং বড় গোস্বামী বাড়ির দূর দূরান্তের শিষ্যরা হাজির হয়েছিলেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, বিকেলে একটি ছোট নগর ভ্রমণ করার পর পাদুকাদ্বয় ফিরে যায় যথাস্থান নবদ্বীপে।