কয়েকবছর আগে পর্যন্ত পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পড়ত রায়বেঁশে কলাকুশলীদের ৷ যুবক-যুবতীরা এসে শারীরিক কসরত দেখাত, ঢোল-কাঁসর ঘণ্টার তালে নাচত ৷ সেসব দেখতে ভিড়ও জমত খুব ৷ কিন্তু, চিত্রটা বদলে গেল দ্রুত ৷ এখন আর ডাক পড়ে না রায়বেশেঁর কলাকুশলীদের ৷ প্রজাতন্ত্র দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কোনও কোনও জায়গায় এখনও ডাক পড়ে রায়বেঁশেদের ৷ তবে তার সংখ্যা হাতেগোনা ৷ ফলে ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে বঙ্গদেশের প্রাচীন লোকনৃত্য রায়বেঁশে।
advertisement
আরও পড়ুন: বড় স্বস্তি! প্রান্তিক সেন্ট্রাল ডুয়ার্সে এই প্রথম গড়ে উঠছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, খুশির হাওয়া এলাকায়
রায়বেঁশেকে তার হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এই প্রথম নয়৷ এর আগে এই লোকনৃত্যকে প্রচারের আলোয় আনার চেষ্টা করেছিলেন ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা গুরুসদয় দত্ত৷ তিনি চেয়েছিলেন গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকনৃত্যগুলিকে ব্রতচারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে৷ তারই পদক্ষেপ হিসেবে রায়বেঁশেকেও ব্রতচারীর সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন, করেওছিলেন৷ তবে তা স্থায়ী হয়নি৷ কারণ, ব্রতচারীও ক্রমাগত ফিকে হতে শুরু করে৷ স্বাভাবিকভাবেই লোকস্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে রায়বেঁশে৷
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
কী এই রায়বেঁশে? রায় কথার অর্থ বড় বা সম্ভ্রান্ত৷ বেঁশে কথার অর্থ বাঁশ৷ অর্থাৎ বাঁশের তৈরি শক্ত লাঠি দিয়ে দেখানো কসরত৷ আনুমানিক কয়েকশো বছর আগে বীরভূমে রায়বেঁশের পথচলা শুরু। শোনা যায়, জমিদারদের লাঠিয়ালরা রায়বেঁশে করত৷ তাদের পায়ে থাকত ঘুঙুর, হাতে লাঠি বা লম্বা বাঁশ ৷ ঢোল ও করতালের তালে তালে তারা শারীরিক কসরত দেখাত৷ তবে বড়ঞার এই যুবকরা এই রায়বেঁশেকে আজও টিকিয়ে রেখেছেন একদিকে জীবিকা উপার্জন অন্যদিকে এই লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।





