জানা গিয়েছে, এলাকার উন্নয়নের কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প কতটা সঠিকভাবে রূপায়িত হচ্ছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ফরাক্কা ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েত এলাকা পরিদর্শন করলেন মুর্শিদাবাদ জেলার জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া।
আরও পড়ুন-জিয়াগঞ্জ থেকে বেরতেই আসল রূপ দেখালেন আমির, অরিজিতকে যা বললেন…, ফাঁস হতেই তোলপাড়
এদিন জঙ্গিপুরের মহকুমাশাসক সুধীকুমার রেড্ডিকে সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসক বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখেন। কোথায় উন্নয়নের ঘাটতি রয়েছে, কোথায় কী ধরনের কাজ হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তিনি গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে ভবিষ্যতে কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন, সে বিষয়েও মতামত নেন। জেলাশাসকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এলাকার সাধারণ মানুষ।
advertisement
আরও পড়ুন- ‘মহাপ্রলয়’ আসছে….! কেতুর গোচরে কাঁপবে দুনিয়া, ৩ রাশির জীবন সঙ্কটে, আর্থিক ক্ষতি কাঙাল করে ছাড়বে
পরিদর্শনের মাঝেই এক মানবিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন গ্রামবাসীরা। ফরাক্কা ব্লকের বেওয়া-২ পঞ্চায়েতের ২ নম্বর নিশিন্দ্রা উচু পাড়া জন্মান্ধ ভাই–বোনের বাড়িতে পৌঁছে তাঁদের মাটির দাওয়ায় বসে পড়েন জেলাশাসক। হারমোনিয়াম বাজিয়ে রামকৃষ্ণ দাশ দুটি গান গেয়ে শোনান তাঁকে। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক প্রধানের এমন সরল ও স্বাভাবিক আচরণ নজর কাড়ে সকলের।
রামকৃষ্ণ দাস বলেন, ‘জেলাশাসক জানতে চান আমাদের সংসার কীভাবে চলে, কোনও সরকারি ভাতা পাই কি না। উনি খুব আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। আমার গান শুনে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। তাঁর ব্যবহার আমার মন ছুঁয়ে গেছে।’ রামকৃষ্ণরা তিন বোন ও এক ভাই। তাঁদের মধ্যে রামকৃষ্ণ ও ছোট বোন জন্মান্ধ। বড় দিদি ও আর এক বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এক বোন ও ভগ্নিপতি তাঁদের দেখাশোনার জন্য একই বাড়িতে থাকেন।
রামকৃষ্ণ জানান, ‘গানবাজনা করে কিছু আয় হয়, সঙ্গে সরকারি ভাতা পাই। এই দিয়েই কোনওরকমে সংসার চলে। আমাদের মতো অসহায় মানুষের পাশে সরকার এসে দাঁড়ালে তার চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে!’ এলাকার পড়শি ও মুদি দোকানের মালিক আমোদিনী হালদার জানান, জেলাশাসক তাঁর দোকান কত বছরের, বাড়িতে কে কে থাকেন—সব খোঁজখবর নেন এবং কোনও সমস্যায় পড়লে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলেন।
এ বিষয়ে জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া জানান, ‘বাংলার বাড়ি, দুয়ারে সরকার, পথশ্রী, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান—এই সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কতটা ঠিকভাবে হচ্ছে, তা দেখতে এবং কোথাও উন্নয়নের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত পূরণ করার জন্যই গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলছি।’





