স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভগবানগোলা ৩ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৩, ৫৪, ৫৫ ও ৫৬ নম্বর বুথের বহু ভোটার এই সমস্যায় পড়েছেন। কেন তাঁদের নাম বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা নোটিশ মেলেনি বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। নিজেদের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ভোটার তালিকার কপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান। গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন , “আমরা বৈধ ভোটার। কোনও কারণ না দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আগে কোনও নোটিশও দেওয়া হয়নি। এভাবে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
advertisement
আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে শুরু জনগণনা, কিন্তু বিজ্ঞপ্তির অভাবে বাংলায় থমকে প্রক্রিয়া, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
প্রাক্তন সিআইএসএফ কর্মী মোঃ সামসুল হক তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন দেশ সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও আমার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সমস্ত সার্ভিস ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পরও নাম ডিলিট হওয়ায় আমরা আতঙ্কে রয়েছি।” স্থানীয় বাসিন্দা রাবিয়া বেওয়া বলেন, “আমার বয়স ৫৬ বছর। এতদিন সব ভোট দিয়েছি, হঠাৎ করে নাম বাদ পড়েছে। এর প্রতিবাদ চাই।” অন্য এক বাসিন্দা ভুলু মহালদার অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মার্সিনা খাতুন ও যেরবানু খাতুন সহ একাধিক বাসিন্দার একই দাবি—কেন তাঁদের নাম বাতিল করা হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তাঁরা দ্রুত নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। ভগবানগোলা রানিতলা নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আজমল হক জানান, “প্রায় ৩০০-৪০০ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আমরা সবাইকে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছি। প্রতিবাদ স্বরূপ তালিকার কপি পুড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যারা যাচাইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা কি নথিপত্র খতিয়ে দেখেননি? কী পদ্ধতিতে এই নামগুলি বাদ পড়ল, তা স্পষ্ট করা জরুরি।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সমস্যার সমাধান না হলে আগামী নির্বাচনে ভোট বয়কটের পথেও হাঁটতে পারেন। যদিও জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশিকা জারি হল মুর্শিদাবাদে। অনলাইনে আবেদন করতে হবে। যার জন্য একটি পোর্টাল চালু করা হয়েছে। কোনও অফলাইন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। যে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে তা হল জন্মগত শংসাপত্র, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, কোর্ট এফিডেফিট, মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড যদি থাকে। এছাড়াও রেশন কার্ড প্যান কার্ড পরিবারের ২০০২ ভোটার তালিকা ।
