এদিন মমতা বালা ঠাকুর বলেন, ‘‘এপিক কার্ডে লেখা থাকে না কে তৃণমূল? কে বিজেপি? মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটারদের ৯০% নাম বাদ চলে গেছে। আন্দোলন করতে রাস্তায় নামছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ।’’
এ নিয়ে বিজেপি’র বিরুদ্ধে রীতিমতো খড়্গহস্ত হয়ে মমতাবালার দাবি, ‘‘এখন বিজেপি বলছে তৃণমূলের বিএলও’র এই সব নাম দিয়েছে। আসলে সমস্যায় পড়েছে বিজেপি, তাই মিথ্যা অভিযোগ করছে।’’
advertisement
তৃণমূল সাংসদ বলেন, “এতদিন বিজেপি বলে এসেছে মতুয়াদের কোনও সমস্যা হবে না। আর এখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মতুয়াদের ভোট কেটে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মতুয়াদের ফোন আসছে। এখন শান্তনু ঠাকুর বলছেন নির্বাচন কমিশন বলতে পারবে… অথচ আগে বলেছিলেন মতুয়াদের পাশে তিনি থাকবেন। এখন তিনি উল্টো কথা বলছেন। কখন কী বলেন ঠিক থাকে না।”
অন্যদিকে, বাগদার বিধায়ক তথা মতুয়া বাড়ির সদস্যা মধুপর্ণা ঠাকুর জানিয়েছেন, “বাগদার ১৪ হাজারেরও বেশি ভোট কাটা দিয়েছে। ১৩ হাজারের বেশি ভোট বিচার্য রাখা হয়েছে। এই এলাকার বেশিরভাগই মতুয়া সমাজের বাস। তাঁদের ভোট যদি অবৈধ হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ । আমরা মতুয়াদের পাশে আছি।”
জানা গিয়েছে, মতুয়া অধ্যুষিত রানাঘাট দক্ষিণে নাম বাদ পড়েছে ৭১২৫ (মতুয়া ও সীমান্ত এলাকা) জনের৷ অন্যদিকে, রানাঘাট উত্তর পূর্বেও ৬৪০০ (সীমান্ত ও মতুয়া এলাকা) নাম বাদ পড়েছে৷
এদিকে, রানাঘাট উত্তর পশ্চিম – ৬৭০০ (কিছুটা মতুয়া এলাকা) জন, কৃষ্ণগঞ্জ – ২৫৩৫ (সীমান্ত ও (মতুয়া এলাকা) জন ও চাকদহ – ৫৮৬০ ((মতুয়া এলাকা কিছু জায়গা) জনের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে৷
নদিয়ার কল্যাণীতে ৯০৩০ জন, হরিণঘাটা – ১৫৩৫ (সামান্য এলাকা মতুয়া) জন, শান্তিপুর – ৮০৪৫ (সামান্য এলাকা মতুয়া) জন ও নবদ্বীপে – ২০৫০ জন বাদ পড়েছে বলে জানা গিয়েছে৷
একই ভাবে উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা থেকেও বাদ গিয়েছে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম। শুধু বাগদা থেকেই বাদ গিয়েছে ১৫,৩০৩ জন ভোটারের নাম। বনগাঁ উত্তরে বাদ পড়েছেন ৭৯২৬ জন ভোটার, বনগাঁ দক্ষিণে বাদ গিয়েছেন ৬৯০২ জন ভোটার। গাইঘাটায় বাদ পড়েছেন ৬৭৭০ জন ভোটার, হাবড়ায় ৫৫৮৭ জন, আশোকনগরে বাদ গিয়েছেন ৬৫৯৬ জন, আমডাঙায় বাদ ৭৫৫৮, নৈহাটিতে বাদ ৬৫৬২ জন, জগদ্দলে বাদ গিয়েছেন ৮৭৭৮ জন ভোটার।
মতুয়াদের নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেছেন, “সংখ্যাটা বিরাট কিছু নয়। যাঁরা হিন্দু শরণার্থী আমরা তাঁদেরকে অনুপ্রবেশকারী বলি, তাঁদের ভোটাধিকার দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মোদিজি আছেন, ভরসা আছে। ৯১ হাজার মত আবেদনকারী ইতিমধ্যেই CAA ফরম ফিলাপ করেছেন। যার মধ্যে ২০০ ৩০০ স্কুট নিতে বাদ গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ৯০ হাজারের মতো শরণার্থী নাগরিকত্ব পাবেন। নাগরিকত্ব পেলেই আপনারা ভোট দিতে পারবেন এটাই নিয়ম। অটোমেটিক দিল্লি থেকে আপনাদের নামের ফাইল চলে আসবে রাজ্যের ইলেকশন কমিশনে। ভয় পাবেন না প্ররোচনায় পা দেবেন না।”
