দীর্ঘদিন ধরেই মালদহে মাদক কারবারের অন্যতম ঘাঁটি হয়ে ওঠেছিল কালিয়াচকের মোজমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা। বিহার, ঝাড়খণ্ড, মণিপুরের মতো প্রতিবেশী রাজ্য থেকে কাঁচামাল এনে এখানে চুপিসারে তৈরি হচ্ছিল ব্রাউন সুগার। স্থানীয় যুবকদের একাংশকে মাদক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া, মাদক লেনদেনের ক্যারিয়ার তৈরি করা, সহজে প্রচুর টাকা রোজগারের প্রলোভন দেওয়া হচ্ছিল। এভাবে শুধু মালদহ নয়, গোটা রাজ্য এমনকি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক সরবরাহে প্রথম সারিতে উঠে এসেছে মালদহের মোজমপুরের নাম।
advertisement
মালদহ জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, গত দুই মাসে কালিয়াচকের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক কারবারের যুক্ত প্রায় ৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একাধিক অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৪০ কেজি ব্রাউন সুগার। যার বাজার মূল্য বেশ কয়েক কোটি টাকা। একদিকে ধারাবাহিক অভিযান, অন্যদিকে সমাজকে মাদক বিরোধী অভিযানে যুক্ত করার উদ্যোগ নিল জেলা পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে কালিয়াচকের মোজমপুর হাইস্কুলে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডাকা সভায় নারায়ণপুর, মোজমপুর, ইমামজাগীর, ডালুগ্রাম, হারুচক প্রভৃতি পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন। যেখানে জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন অনেকেই বর্তমানে ব্রাউন সুগার কারবারে কালিয়াচকের নাম ‘কুখ্যাত’ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সহজে বেশি পয়সা উপার্জনের জন্য অনৈতিকভাবে এলাকার যুব সমাজের একাংশ এই কারবারে যুক্ত হয়ে পড়ছে বলে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরা একইসঙ্গে সমাজের ক্ষতি করছে- উপস্থিত নাগরিকদের কাছে এই বার্তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ স্পষ্ট করে দেয়, যারা এখনও সংশোধন হবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিনের সভা থেকেই মাদকমুক্ত কালিয়াচক গড়ার অঙ্গীকার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মোজমপুর পঞ্চায়েতের কোনও গ্রামে আর মাদক তৈরি বা কারবার করতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে একযোগে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেন স্থানীয়রা। এরপরেও গ্রামের কেউ মাদক কারবার করলে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
