মালদহ জেলার পুরাতন মালদা ব্লকের সাহাপুর অঞ্চলের ‘তাঁতি পাড়া’ নামেই যার পরিচয়। একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল হাত ও পায়ে চালিত হ্যান্ডলুম। ভোরের ঘুম ভাঙত তাঁতের নিয়মিত খটখট শব্দে। শিল্পীরা সারাদিন ব্যস্ত থাকতেন শাড়ি বোনার কাজে। সেই শাড়ি স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বাইরেও যেত। কিন্তু সময়ের স্রোতে আজ সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।
advertisement
বর্তমানে বহু মানুষ জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন, কেউ আবার অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে গ্রামে এখন আর আগের মতো তাঁতের সারি দেখা যায় না। তবুও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি ঐতিহ্য। গ্রামের প্রবীণ তাঁতশিল্পী হারাধন দাস জানান, “প্রায় ১৫ বছর আগেও প্রতিটি বাড়িতে তাঁত বা হ্যান্ডলুম ছিল। এখন মাত্র প্রায় ১৬টি বাড়িতে তাঁত রয়েছে। এখানে মূলত খাদি বস্ত্র তৈরি হয়। আমরা সম্পূর্ণ মালিকদের অধীনে কাজ করি। নিজেদের হাতে তাঁত বুনে শুধু পরিশ্রমটাই দিতে হয়।”
আরও পড়ুন: আম-লিচুর পাশাপাশি মালদহে আয়ের নতুন দিশা! মধু উৎপাদনে কীভাবে রেকর্ড গড়ছেন চাষিরা, জানুন
আর এক তাঁতশিল্পী তরুণ দাস বলেন, “সারা বছর খাদি দফতরের অধীনে তাঁত বোনার কাজ করি। ছুটির দিনগুলোতে বাড়ির নিজেদের তাঁতে খাদি বস্ত্র বুনি। দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রোজগার হয়। বর্তমান বাজারদরে সংসার চালাতে যথেষ্ট অসুবিধা হয়। আগে গ্রামের প্রায় সকলেই এই কাজ জানত। কিন্তু পরিশ্রম বেশি আর আয় কম হওয়ায় অনেকেই পেশা বদলেছেন।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আগের মতো আর শাড়ি বোনা না হলেও খাদি বস্ত্র তৈরির মাধ্যমে ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তাঁতি পাড়ার মানুষ। একসময় যে পাড়া খটখট শব্দে গমগম করত, আজ সেখানে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়ি থেকেই শোনা যায় সেই সুর। তবুও গ্রামের নাম আজও ‘তাঁতি পাড়া’, কারণ ইতিহাস ও পরিচয় এখনও বেঁচে আছে এই কয়েকটি তাঁতের শব্দেই।





