নববর্ষের প্রথম দিনের আগে পুরনো বছরের শেষ সাত দিন লোসার পালন করা হয়। সিকিমের রাজা সিগমে নমগিয়াল সিকিমে লোসার পালনের প্রথা এক মাস এগিয়ে আনেন। সিকিমে তাই ভারতের অন্যান্য জায়গার থেকে এক মাস আগে লোসার পালিত হয়। এই উৎসব সেখানে ‘সোনাম লোসার’ নামে পরিচিত।
আরও পড়ুনঃ মুর্শিদাবাদে বসেই প্যারিসের মজা! সরস্বতী পুজোয় ডিজনিল্যান্ডের আদলে মণ্ডপ, জেলাবাসীর জন্য বিরাট চমক
advertisement
সিকিম সহ পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় যেখানে ডুকপা জনজাতির বসবাস, সেখানে একই নিয়মে লোসার উৎসব পালিত হয়। বছরের ১২ মাস ১২টি ভিন্ন প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত। এই প্রাণীগুলি হল, ইঁদুর, ষাঁড়, বাঘ, খরগোশ, ঈগল, সাপ, ঘোড়া, ভেড়া, বানর, মোরগ, কুকুর ও শূকর।
লোসার চলাকালীন তামাং সম্প্রদায়ের মানুষেরা বৌদ্ধ মঠে যান। এই উৎসবের সময় বাড়ি-ঘর আলপনায় সজ্জিত হয়। রাতে বাড়িতে একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়। লোসার উদযাপনের সময় যখন ঘনিয়ে আসে, তখন স্থানীয়রা প্রচণ্ড উত্তেজনায় ভরপুর থাকেন। উদযাপনের প্রস্তুতিতে নিজেদের সামিল করেন। যার মধ্যে নৃত্য পরিবেশনা, সঙ্গীত পরিবেশনা, মঠের সাজসজ্জা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মহড়া অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, মানুষজন কোনও অপ্রয়োজনীয় পুরানো জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করাও শুরু করেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ, কালচিনি এলাকায় লোসার উৎসব পালিত হচ্ছে। ডুয়ার্স তামাং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সোনাম লোসারের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে বৌদ্ধদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি। এই উৎসবে সকলেই নিজস্ব সংস্কৃতির পোশাক পড়ে অংশগ্রহণ করেন। ওয়াংগেল লামা নামের এক ব্যক্তি জানান, “তামাং সম্প্রদায়ের মহিলা, পুরুষেরা সাংস্কৃতিক পোশাক, গয়না, টুপি পরে উৎসবে আসেন। নাচ, গানে জমজমাট হয় উৎসব স্থল। মাঠে বিশেষ প্রার্থনা হয়।”





