রাজবাড়ির শহর বর্ধমান। রাজ আমলের অনেক প্রথাই মেনে চলেন এই শহরের বাসিন্দারা। বর্ধমানের মহারাজ মহাতাব চাঁদ ঘুড়ি ওড়াতে খুব ভালবাসতেন। তিনিই পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব শুরু করেন। তাঁর সময়ে রাজবাড়িতে ঘুড়ি তৈরির কারিগরদের নিয়ে আসা হতো। তারা নানা রঙের নানা আকারের ঘুড়ি তৈরি করতো। ঘুড়ির মেলার দিন রাজবাড়ির ছাদে প্রচুর জাকজমক হতো। বন্ধু রাজাদের আমন্ত্রণ জানানো হতো। খানাপিনার সঙ্গে দিনভর চলতো ঘুড়ি ওড়ানো। রাজবাড়ির পক্ষ থেকে প্রজাদেরও ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসাহ দেওয়া হতো।
advertisement
সেই সময় থেকেই একটানা পৌষ সংক্রান্তিতে বর্ধমান শহরে ঘুড়ির মেলা হয়ে আসছে। শহরের প্রবীণ বাসিন্দারা বলছেন, আগে আরও বেশি ঘুড়ি উড়ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চল এখন কমেছে। আজকের শিশু কিশোররা ঘুড়ি লাটাইয়ের বদলে মোবাইল ফোন, ভিডিও গেমে বেশি আসক্ত। মা বাবারাও সারাদিন ছেলে রোদে পুড়ে ঘুড়ি ওড়াক চান না। এসব নানা কারণে ঘুড়ি ওড়ানোর চল কমেছে। তবে অনেকেই রয়েছেন এই দিনটিতে বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তাঁরা রাজ আমলের সেই প্রথা ধরে রেখেছেন বলা যায়।
আগের থেকে আকাশে ঘুড়ি কম উড়লেও এখনও কিন্তু উৎসাহ উদ্দীপনা আনন্দের কোনও খামতি নেই। বর্ধমানের পুরাতনচক, নতুনগঞ্জ, বড়বাজার, বহিলাপাড়া, কার্জনগেট চত্বর, বীরহাটা, খালুইবিল মাঠ,কালীবাজার, ইছলাবাদ সহ শহরের সব এলাকাতেই ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শীতের মিঠে রোদ পিঠে নিয়ে চলছে পিঠে খাওয়া, চলছে পিকনিক, সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানো। থেকে থেকে রব উঠছে ভো- কাট্টা।
