শরীর থেকে কেটে নেওয়া হয়ে ছিল মাথা। সেই মাথার খোঁজে দিনভর গোটা তল্লাট চষে বেড়ায় পুলিশ। আনা হয় কুকুর। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরকেও ডাকা হয়। রাতেও তল্লাশি চলে। তারপরেও মুন্ডু উদ্ধার না হওয়ায় সকাল থেকে ড্রোন নামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন পুলিশ কর্মীরা। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ বৃদ্ধার এক জামাই। ঘটনায় বৃদ্ধার এক মেয়েকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে জানাগিয়েছে।
advertisement
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে সমিজা খাতুন তাঁর ৬ বছরের নাতির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন। ছোট ছেলে ইউসুফ আলি জানান, রাত ১১টা নাগাদও মা ও ছেলের গল্পের আওয়াজ পেয়েছিলেন তিনি। শনিবার সকালে ঘরের দরজা খোলা দেখে ইউসুফ ভাবেন মা হয়তো শৌচকর্মের জন্য বাইরে গিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ খোঁজ না মেলায় ঘরের পেছনে গিয়ে দেখেন মায়ের মুণ্ডহীন দেহ পড়ে রয়েছে।আশ্চর্যজনকভাবে, পাশে ঘুমিয়ে থাকা ৬ বছরের শিশুটি এই নৃশংস ঘটনার টেরই পায়নি।
আরও পড়ুন: ‘ভোটবাক্সে বদলা হবে’, IAS-IPS অফিসারদের অপমান নিয়ে সরব মমতার নিশানায় একজোগে বিজেপি ও কমিশন
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতয়ালি থানার পুলিশ, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ এবং স্নিফার ডগ। বিকেল পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও কাটা মুণ্ডটির হদিশ মেলেনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানান, “প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার নিচে আঘাত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।” তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃতার পরিবারে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রায় দুই বিঘা পৈত্রিক জমি নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিবাদ চলছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। যদিও বড় ছেলে মকবুল হক দাবি করেছেন, এই খুনের সঙ্গে জমি বিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে পুলিশ সবকটি দিকই খতিয়ে দেখছে।
শান্তনু কর
