এতদিন সে বেঙ্গালুরু-র একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করত। নতুন সুযোগের আশায় বিদেশে পাড়ি দেয়। সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই তার কর্মস্থল পড়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যাচ্ছে সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ মিনিট দূরত্বে রয়েছে সে। পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হচ্ছে ঠিকই, তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যেই তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কে দিন কাটছে তার।
advertisement
আকাশে শুধুই বিস্ফোরণের শব্দ। ঘরবন্দি অবস্থাতেই আতঙ্কে দিন কাটছে তন্ময়ের। বাইরে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছে না। ফোনে কথা বলার সময় সে জানিয়েছে, আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ছেলের এমন অবস্থার কথা শুনে খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ পরিবারে। সারাক্ষণ খবরের চ্যানেল চালিয়ে রাখছেন তারা। কখন কী হয় সেই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। প্রতিবেশীরাও বাড়িতে এসে খোঁজ নিচ্ছেন। পরিবারের দাবি দ্রুত তার ছেলেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
তন্ময়ের বাবা চিত্তরঞ্জন বেরা বলেন, “এই প্রথমবার আমার ছেলে বিদেশে কাজে গিয়েছে। সেখানে গিয়ে এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়বে ভাবিনি। মাঝেমধ্যে ফোনে কথা হচ্ছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক সমস্যা বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ও খুব ভয় পাচ্ছে। শারীরিকভাবে সুস্থ আছে, কিন্তু মানসিক চাপ খুব বেশি।” পরিবারের দাবি, ভারত সরকার যেন জরুরি উদ্যোগ নিয়ে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনে।
এদিকে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরান-এর ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েল-এর যৌথ সামরিক হানার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মিসাইল হামলার সতর্কতায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহু উড়ান বাতিল করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে বহু যাত্রী আটকে পড়েছেন। আকাশপথে চলাচল সীমিত হওয়ায় দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আরব দুনিয়ার আকাশজুড়ে যুদ্ধবিমান টহল, মিসাইল সতর্কতা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সেই আতঙ্কের মধ্যেই নিরাপদে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে রামনগরের তন্ময়।






