হঠাৎ এমন ঘটনায় যাত্রীরা প্রথমে কিছুটা হতবাক হয়ে পড়লেও দ্রুত মানবিকতার পরিচয় দেন। কয়েকজন মহিলা যাত্রী কাপড় দিয়ে আড়াল তৈরি করেন এবং প্রসূতিকে সাহায্য করেন। অন্য যাত্রীরাও জল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে পাশে দাঁড়ান। ট্রেন কাটোয়া স্টেশনে পৌঁছতেই জিআরপি কর্মীরা তৎপর হন। আগে থেকেই খবর পৌঁছেছিল। স্টেশনে প্রস্তুত ছিল পুলিশ ও রেলকর্মীরা। মা ও নবজাতককে দ্রুত নামিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
advertisement
আরও পড়ুন: দুবরাজপুর গৃহবধূ খুনের রহস্যভেদে ‘টিনা’! ঘাতকের খোঁজে অলিতে-গলিতে তল্লাশি, জানুন মাঠের আসল চিত্র
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও সদ্যোজাত শিশুপুত্র দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন।কাটোয়া জিআরপি-র ওসি তন্ময় পুরকাইত জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপত্তার সঙ্গে প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, সুন্দরি বিবি মুর্শিদাবাদ জেলার সালার থানার বাসিন্দা আলিম আনসারীর স্ত্রী। এটি তাঁদের তৃতীয় সন্তান। এর আগে তাঁদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিন তাঁকে নিয়ে আসছিলেন তাঁর মা, মাধাইপুর গ্রামের বাসিন্দা আসমাতারা বিবি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তিনি বলেন, এত দ্রুত প্রসব হয়ে যাবে তা তাঁরা ভাবতেই পারেননি। তবে ট্রেনের সহযাত্রীদের সহায়তা ও জিআরপি-র দ্রুত পদক্ষেপের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। এদিকে, সুন্দরী বিবির স্বামী আলিম আনসারী কর্মসূত্রে কেরলে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। ট্রেনের মধ্যে সন্তানের জন্মের খবর জিআরপি-র তরফে তাঁকে জানানো হলে তিনি আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন। দূরে থাকলেও সুসংবাদ পেয়ে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত মা ও শিশুর সুস্থতার খবরেই স্বস্তি নেমে আসে। চলন্ত ট্রেনে সন্তানের জন্ম,এই বিরল ঘটনায় যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই সহযাত্রী ও রেল পুলিশের মানবিক ভূমিকাও কুড়িয়েছে প্রশংসা।






