আর পাঁচটা শিশুর মতো পুজোর দিন সকাল থেকে অঞ্জলির প্রস্তুতিতে কয়েক বছর কেটেছে। কিন্তু গত কয়েক বছর তাঁর কাছে সরস্বতী পুজো বা অন্যান্য পুজো একটু অন্যরকম। এবার সরস্বতী পুজোর প্রায় এক-দেড় মাস আগে থেকেই যেমন স্নেহাশীষের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
advertisement
মা, বাবা, বোন, ঠাকুমা ও কাকাকে নিয়ে স্নেহাশীষের ছোট্ট সংসার। বাবা মোহন খাঁড়া জরির কাজের কারিগর, দিন এনে দিন খাওয়া পরিবার। দু’চোখে ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখার স্বপ্ন থাকলেও সন্তানকে বড় স্কুল বা অন্য কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সামর্থ্য হয়নি। তবে গ্রামে লেখাপড়ার পাশাপাশি অঙ্কন প্রশিক্ষণে যুক্ত করা হয়। ধীরে ধীরে আঁকায় বেশ মনোযোগী হয়ে ওঠে স্নেহাশীষ। এরপর খেলার ছলেই প্রতিমা তৈরি শুরু করে। তখন সে পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তারপর গ্রামেই একটি শিল্পালয়ে কিছুদিন প্রতিমা করার কাজ করা। গত কয়েক বছর ধরে নিজের বাড়িতেই বরাত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিমা গড়ছে এই স্কুল পড়ুয়া।
গত বছর জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে এবার একাদশ শ্রেণির ছাত্র স্নেহাশীষ। সংসারের হাল ধরতে প্রতিমা তৈরি করে অল্প বয়স থেকেই উপার্জনের পথ বেছে নিয়েছে সে। আগামী দিনে নিজের একটি শিল্পালয় গড়তে চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই প্রসঙ্গে স্নেহাশীষ জানায়, গত কয়েক বছর নিজে বরাত নিয়ে প্রতিমা তৈরি করেছে। স্বপ্ন রয়েছে, একটি বড় স্টুডিও তৈরি করার। বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি গড়লেও ছাত্র হিসেবে সরস্বতী মূর্তি গড়া থেকেই যেন শুরু হয়েছে মায়ের আরাধনা। সে আরও জানায়, লেখাপড়ার চাপ বেড়েছে তাই অল্প প্রতিমার বরাত নিয়ে কাজ করছি। নিজের পড়ার খরচ জোগানোর পাশাপাশি পরিবারের সামান্য আর্থিক সহযোগিতা করতে পেরে ভীষণ আনন্দিত হই।





