Birbhum News: বিপদের মুখে বীরভূমের সবুজ সম্পদ! বসন্তের শুরুতেই একের পর এক বনাঞ্চলে ভয়াবহ ঘটনা, বাড়ছে উদ্বেগ
- Reported by:Sudipta Garain
- Published by:Sneha Paul
Last Updated:
Birbhum News: বসন্তের শুরুতেই জ্বলছে বীরভূমের একের পর এক বনাঞ্চল। সম্প্রতি সিউড়ি রেঞ্জের তসরকাটায় বিস্তীর্ণ বনভূমি অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই দুবরাজপুর রেঞ্জের যশপুরের মেটেলা জঙ্গলেও একই ঘটনা ঘটে।
শীত শেষে বসন্তের শুরুতেই বীরভূমের বনাঞ্চলগুলিতে আগুনের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি সিউড়ি রেঞ্জের তসরকাটায় প্রায় তিন হেক্টর বনভূমি অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে। এর কয়েকদিনের মধ্যেই দুবরাজপুর রেঞ্জের যশপুরের মেটেলা জঙ্গলেও আগুন লাগে। এই ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রচুর গাছপালা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীরাও চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। (ছবি ও তথ্যঃ সুদীপ্ত গড়াই)
advertisement
বন বিভাগের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই আগুন লাগার কারণ প্রাকৃতিক নয়, বরং মানুষের তৈরি। শীতের শেষে বনভূমি শুকনো পাতায় ঢেকে থাকে। এই সময়ে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে জ্বলন্ত বিড়ি, সিগারেট কিংবা দেশলাই কাঠি জঙ্গলে ফেলে দেন, তবে তা মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের রূপ নেয়। সামান্য অসতর্কতা তিল তিল করে গড়ে ওঠা বনভূমিকে নিমেষে ছাই করে দিচ্ছে।
advertisement
এই বছর দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে গত বর্ষার অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত। বন কর্তারা জানাচ্ছেন, অক্টোবর পর্যন্ত প্রচুর বৃষ্টির কারণে জঙ্গলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি আগাছা জন্মেছিল। কিন্তু তারপর থেকে দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় সেই বুক সমান উচ্চতার আগাছা এখন শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। এই শুকনো আগাছা আগুনের সংস্পর্শে আসামাত্রই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
advertisement
জঙ্গলের দুর্গম পথে দমকলের গাড়ি ঢোকা অসম্ভব। তাই আগুন নেভাতে বন দফতরের প্রধান ভরসা এখন 'মেকানাইজড এয়ার ব্লোয়ার'। দুবরাজপুরের রেঞ্জার প্রদীপ মিশ্র জানিয়েছেন, এই যন্ত্রটি তীব্র বাতাসের সাহায্যে আগুন প্রতিহত করে এবং শুকনো পাতা সরিয়ে দিয়ে আগুনের পথ আটকে দেয়। তবে শুধু যন্ত্রের উপর নির্ভর না করে দ্রুত খবর আদানপ্রদান এবং মাঠপর্যায়ে কর্মীদের তৎপরতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।
advertisement
বন দফতরের আধিকারিকদের মতে, কেবল পরিকাঠামো বা যন্ত্র দিয়ে জঙ্গল রক্ষা করা সম্ভব নয়। এর জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষকে আগুনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বনভূমি রক্ষায় সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সতর্কতা না থাকলে আগামীর শুষ্ক দিনগুলিতে বীরভূমের সবুজ সম্পদ বাঁচিয়ে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। (ছবি ও তথ্যঃ সুদীপ্ত গড়াই)







