উল্লেখ্য, রবি শংকরের দুই সন্তান। তার স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে রাজস্থান চলে গিয়েছিলেন। বাড়িতে দুই বাচ্চাকে রেখে জুটমিলে কাজে যেতেন শ্রমিক রবি শংকর। সারাদিন খেয়ে না খেয়ে অবহেলায় কাটত দুই শিশুর। জানা যায়, ঘটনার দিন রাত নটা নাগাদ রবি শংকর কাজ থেকে বাড়ি ফিরতেই খিদের জ্বালায় কান্নাকাটি করতে থাকে দুই শিশু। রাগের মাথায় অভিযুক্ত এক চড় মারে মেয়েকে। ঘরেই মারা যায় শিশুটি। তাকে স্থানীয় গ্লাস কারখানা, যেটি বন্ধ হয়ে পরেছিল, সেখানে নিয়ে গিয়ে পুঁতে দেওয়া হয়। ঘটনা জানতে পেরে প্রতিবেশী মনোজ সাউ খুনের অভিযোগ দায়ের করেন মগড়া থানায়।
advertisement
আরও পড়ুন: দূষণমুক্ত সমাজ গড়তে একজোট ৫৪ স্কুল, শপথ নিল শতাধিক পড়ুয়া! সচেতনতা দেখে মুগ্ধ বিশেষজ্ঞরা
পুলিশ রবি শংকরের বিরুদ্ধে ৩০২,২০১,৩৪ ধারায় মামলা রুজু করে। ঘটনার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন সুন্দর গোপাল মুখোপাধ্যায়। পুলিশি তদন্তের পর ৩০৪ ও ২০১ ধারায় চার্জশিট দাখিল হয় আদালতে। মামলা চলাকালীন ১১ জন সাক্ষ্য গ্রহন হয়। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত রবি শংকরকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। চুঁচুড়া আদালতের মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গাঙ্গুলী বলেন, তদন্তকারী অফিসার খুব ভাল তদন্ত করেছেন।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল ফাঁদে পা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হারিয়েছিল মানুষ, সাইবার পুলিশের দাপটে ফিরল স্বস্তির হাসি
মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ তোলার সময় উপস্থিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট সমীরন ভট্টাচার্য। মামলা চলাকালীন তিনি অন্যত্র বদলি হয়েছিলেন। তিনি এসেও সাক্ষী দিয়েছেন। তার সাক্ষীর ভিত্তিতেই মামলা দাঁড়িয়েছে। যদিও অভিযুক্ত পাঁচ বছর জেল খাটার পর জামিন পেয়েছিলেন। তারপর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রিন্টু সুর বুধবার মামলার সাজা ঘোষনা করেন। দোষী রবি শংকরকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা শোনান। ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েন তিনি।
