বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগমের অধীনে বিভিন্ন সরকারি ডিপোয় রয়েছে ৮০টি ইলেকট্রিক বাস। এই বাসগুলি ৯ মিটার ও ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের, এবং প্রতিটির দাম ৯৫ লক্ষ থেকে ১.৩০ কোটি টাকা। বাস নির্মাণকারী সংস্থার দাবি ছিল, সম্পূর্ণ চার্জে বাসগুলি ১০০–১১০ কিমি পর্যন্ত চলতে পারে এবং অন্তত ১২ বছর যাত্রী পরিবহণে সক্ষম। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, খুব অল্প সময়েই ব্যাটারির ক্ষমতা কমে গিয়ে মাইলেজ নেমে এসেছে ৭০–৮০ কিমিতে। এর সঙ্গে রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং যন্ত্রাংশের অভাবজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়া। প্রতিটি ই-বাসে রয়েছে তিনটি করে ব্যাটারি, যার এক-একটির দাম প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। ব্যাটারি দুর্বল হলে বাস কার্যত অচল হয়ে যাচ্ছে। যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে হাতেগোনা কয়েকটি সংস্থা, যার ফলে বাজারে একচেটিয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
advertisement
পরিবেশ দূষণের বিষয়টি মাথায় রেখে এ বার বিকল্প হিসেবে সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাস) চালিত বাসের দিকে ঝুঁকছে রাজ্য। পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে ২০০টি সিএনজি চালিত এসি বাস কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কলকাতার রাস্তায় ২৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিএনজি বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহণ দপ্তর। এই বাসগুলি চালাবে রাজ্য পরিবহণ নিগম (ডব্লুবিটিসি)।
সরকারি সূত্রে খবর, এই বাসগুলি চলবে বেলগাছিয়া–নিউ টাউনের ইকো স্পেস, পার্ক সার্কাস–ডানকুনি, কুঁদঘাট–বারাসত, জোকা–বারাসত, টালিগঞ্জ–হাবরা, কলকাতা বিমানবন্দর–বারাসত, সেক্টর ফাইভ–যাদবপুর, শিয়ালদহ–হাওড়া, হাওড়া–ব্যারাকপুর, হাওড়া–বারুইপুর, সল্টলেক–বারুইপুর এবং হাওড়া–ডায়মন্ড হারবার রুটে।
প্রতিটি বাসের দাম আনুমানিক ৪২ থেকে ৪৪ লক্ষ টাকা। এই বাসগুলি শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, দীর্ঘস্থায়ীও। ব্যাটারি সমস্যার ঝামেলা ছাড়াই অন্তত ১৫ বছর পর্যন্ত রাস্তায় পরিষেবা দিতে পারবে এই বাসগুলি।
