প্রতিবছর ফুলপ্রেমীদের ভিড় বাড়ছে কংসাবতী নদীর তিরে এই গ্রামে। শীতকালীন ফুল দেখতে পর্যটকেরা ভিড় করছেন। তাতেই জমজমাট হয়ে উঠেছে ফুলকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প। সূর্যাস্ত কিংবা সূর্য উদয়ের সোনালি আভার সঙ্গে মৌমাছির গুঞ্জন যেন সৃষ্টি করে এক অপরূপ মেলবন্ধন। পাঁশকুড়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষজনের অর্থ উপার্জনের অন্যতম পথ হল ফুল চাষ। এই ব্লকের ফুল পাড়ি দেয় ভিন রাজ্যে ও বিদেশে।
advertisement
রেলপথে পাঁশকুড়া স্টেশনের পরের স্টেশনই হল ক্ষীরাই। সেখান থেকে মিনিট খানেকের লাল মাটির মেঠো পথ দিয়ে হাঁটলেই দেখা যাবে ফুলের স্বর্গরাজ্য। ফুলের এই স্বর্গরাজ্য নিয়ে ভারতীয় রেল মন্ত্রক থেকেও প্রচারমূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করা হয়েছে একাধিকবার। এর পাশাপাশি বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া কারণে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই জায়গা। আসছে সাধারণ মানুষ, বাড়ছে কর্মসংস্থান।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রীতম সামন্ত জানান, “আগে শুধু ফুল চাষ করতাম। বর্তমানে ফুল দেখার জন্য এই জায়গায় বহু দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটক আসছে। কেউ ওড়িশার কটক, পুরীর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা ভিড় করছে। ফুলের কারণে পর্যটন কেন্দ্রের বিকাশ ঘটেছে। দোকানপাটের বিক্রি বেড়েছে। বেড়েছে কর্মসংস্থান। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব যাতে আগামী দিনে আরও বেশি পর্যটক আসে সেই দিকে নজর দেওয়া হলে আমরা আরও বেশি উপকৃত হব।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এলাকায় কেউ চন্দ্রমল্লিকা, কেউ ডালিয়া, আবার কেউবা বিভিন্ন বর্ণের এস্টার চাষ করছে। শীত পড়লেই সেজে ওঠে ক্ষীরাই। ইতিমধ্যে এই পর্যটনস্থলকে কেন্দ্র করে হোমস্টে চালু করেছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে আরও একাধিক উদ্যোগ নিতে চলেছে সরকার। চলতি বছর নভেম্বর থেকেই ফুল দেখতে ক্ষীরাইয়ে পর্যটকদের ভিড়। এই ভিড় থাকবে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত। প্রতি শনি, রবিবার ও ছুটির দিনগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ফুল দেখতে। এরপর ফুল কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্রে বসেছে নানান ধরণের দোকান। বেড়েছে পেশা। ফুল প্রেমী পর্যটকদের কারণে প্রত্যন্ত গ্রামের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে যাচ্ছে।





