বছরের এই কঠিন মাসগুলিতে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে পূর্ব রেল পুরো জোন জুড়ে প্রধান প্রধান জংশন এবং লোকাল স্টেশনগুলিতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার কুলার বসানোর একটি বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নেটওয়ার্কের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত স্টেশনগুলোতে এই কাজের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। শিয়ালদহ স্টেশন, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১১ থেকে ১২ লক্ষ যাত্রীর সমাগম হয়, সেখানে চাহিদা মেটাতে ২০টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল-গ্রেডের ওয়াটার কুলার বসানো হয়েছে। অন্যদিকে ঐতিহাসিক হাওড়া স্টেশনে, যা প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ লক্ষ মানুষের ভিড় সামলায়, সেখানে লক্ষ লক্ষ যাত্রীদের হাইড্রেটেড এবং সুস্থ রাখতে পূর্ব রেল ৩২টি ওয়াটার কুলার স্থাপন করেছে।
advertisement
‘প্যাসেঞ্জার ফার্স্ট’ বা যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার এই প্রতিশ্রুতি কেবল শহরের বড় টার্মিনাসগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; রেলওয়ে তার চারটি প্রধান ডিভিশনকেই এই কুলিং স্টেশনের আওতায় নিয়ে এসেছে। এই উদ্যোগে হাওড়া ডিভিশন সবথেকে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ১১৬টি স্টেশনে ২৫৯টি ওয়াটার কুলার বসানো হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশনে ১০২টি স্টেশনে ১২৪টি ইউনিটের মাধ্যমে ব্যাপক কভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। মালদহ ডিভিশনে ৩৪টি স্টেশনে ৯৩টি ওয়াটার কুলার সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং আসানসোল ডিভিশন তাদের ২৫টি স্টেশনে মোট ৬৮টি কুলিং ইউনিট বসিয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন যে, জোন জুড়ে কৌশলগতভাবে এই কয়েকশো ওয়াটার কুলার স্থাপনের মাধ্যমে পূর্ব রেল এটি নিশ্চিত করছে যে, কোনও যাত্রী মালদহ ডিভিশনের কোনও ছোট স্টেশনে থাকুন বা হাওড়ার ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে—ঠান্ডা জল যেন সবসময় তাদের নাগালের মধ্যেই থাকে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এই উদ্যোগটি পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে প্রতিটি যাত্রীর জন্য একটি নির্বিঘ্ন, আরামদায়ক যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৷’’
