পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে নন্দীগ্রাম–২ ব্লকের ঘোলপুকুর এলাকার বাসিন্দা গার্গী মণ্ডল মাইতিকে প্রসব যন্ত্রণার কারণে রেয়াপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অভিযোগ, রাতে প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার চিকিৎসক ও নার্সদের জানানো হলেও কেউ সময়মতো উপস্থিত হননি। ফলে সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, প্রসব যন্ত্রণা তীব্র হলেও দীর্ঘ সময় চিকিৎসক বা নার্স কেউই রোগীর কাছে আসেননি। ওটি রুমে নিয়ে যাওয়ার পরে এক নার্স একবার দেখে গেলেও প্রসবের সময় কোনও সহযোগিতা করা হয়নি। অনেক পরে চিকিৎসক উপস্থিত হন৷ ততক্ষণে সদ্যোজাত আর বেঁচে নেই।
advertisement
মৃত শিশুর বাবা মোহন মাইতি বলেন, ‘‘আমাদের মতো আর যেন কোনও বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়। গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’’ এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসিত কুমার দেওয়ান জানান, এই ঘটনায় চিকিৎসা সংক্রান্ত গাফিলতির বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় গাফিলতি থাকলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এর পাশাপাশি জেলায় আর কোন জায়গায় এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: ধ্বংসস্তূপ সরাতেই বেরিয়ে এল…! আনন্দপুরে উদ্ধার আরও ৪ অগ্নিদগ্ধ দেহ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫
নন্দীগ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যায়, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার গাফিলতি রয়েছে বলে কার্যত মেনে নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। ওই নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে এলেই সব কিছু পরিষ্কার হবে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর এই ধরনের অভিযোগে কড়া হাতে মোকাবেলা করার উদ্যোগী হয়েছে। নন্দীগ্রামের এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।






