গ্রীষ্মকালের আগে থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার পাকুড়িয়া মান্দারগাছিয়া সহ বিভিন্ন গ্রামে এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে তালপাতার পাখা তৈরি করছেন কারিগররা। সর্বত্রই এখন তালপাতা কাটা, শুকনো আর তাতে রঙবেরঙের সুতো দিয়ে নকশা করার ধুম। প্রযুক্তির চাকচিক্য হয়ত ড্রয়িংরুমের ভোল বদলে দিয়েছে, কিন্তু তীব্র গ্রীষ্মের দিনে লোডশেডিংয়ের সময় সেই অসহ্য দুপুর বা রাতে এখনও সাধারণ মানুষের প্রথম পছন্দ হাতের কাছের ওই তালপাতার পাখা। এসি কিংবা দামী ইলেকট্রিক পাখা সাময়িক আরাম দিলেও, লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে তালপাতার পাখাই ভরসা। এটা শুধু বাতাস দেয় না, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নস্টালজিয়া।
advertisement
আরও পড়ুন: উত্তরীয়তে লুকিয়ে গোটা ভারতের ইতিহাস, শিক্ষকের ঘর যেন মিনি মিউজিয়াম! সংস্কৃতিপ্রেমীরা মিস করবেন না
সাশ্রয়ী প্লাস্টিক বা মেটালের ভিড়ে তালপাতার পাখা সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। কোনও বিদ্যুৎ খরচ নেই, রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা নেই। গ্রামাঞ্চল তো বটেই, শহরের লোডশেডিংয়েও এখনও ‘লাইফ সেভার’ তালপাতার পাখা। প্রতিটি পাখাতে থাকে কারিগরদের হাতের নিপুণ কাজ, যা কোনও কারখানায় তৈরি মেশিনের পাখায় পাওয়া অসম্ভব। মেলা হোক বা ফুটপাত, খুব সামান্য মূল্যে এই অমূল্য আরাম খুঁজে পাওয়া যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি পরিবার এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তালপাতার পাখার কারিগর পরিমল মণ্ডল জানান,, “বাজার হয়ত বদলেছে, কিন্তু তালপাতার বাতাসের টান কেউ অগ্রাহ্য করতে পারে না। ধীরে ধীরে বাড়ছে তালপাতার পাখার চাহিদা। শুধু গরমের দিনে আরাম খোঁজার জন্য নয়, বর্তমানে মণ্ডপ ও বাড়ির সাজসজ্জার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পাখার কদর বাড়লেও, সমস্যায় জেরবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাকুড়িয়া গ্রামের এই তালপাতার পাখা তৈরির সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলি। কারণ আগে তালপাতার পাখা তৈরির জন্য লোক খুঁজে পাওয়া যেত। এখন চাহিদা থাকলেও ভাল কারিগর না থাকায় বেশি পাখা তৈরি হচ্ছে না। ওই গ্রামে কয়েক লক্ষ তালপাতার পাখা তৈরি হচ্ছে। আর সেই তালপাতার পাখা পৌঁছে যাচ্ছে জেলার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি ও বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলার বাজারে। প্রযুক্তির জয়গান চলুক তার আপন গতিতে। কিন্তু তালপাতার পাখার স্নিগ্ধ বাতাসের টানেই গরম এলেই তাই খোঁজ পড়ে তালপাতার পাখার। পাকুড়িয়া গ্রামের মণ্ডল পরিবার বংশপরম্পরায় বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলার এই কুটির শিল্পটিকে।





