বিভিন্ন দেশের পুতুল নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। পড়াশোনার সূত্রেই তাঁর মনে হয়, সারা পৃথিবীর পুতুল একসূত্রে গাঁথার। তাই রং-তুলি ছেড়ে কাদা-মাটি ধরেন। হুগলি নদী তীরবর্তী কুকরাহাটি থেকে মাটি এনে সেই মাটি দিয়েই ধারাবাহিক ভাবে গড়ে তুললেন একের পর এক পুতুল। আফ্রিকা, কলম্বিয়া, মিশর, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইতালি, জার্মানি, জাপান, চিন, বাংলাদেশ-সহ বহুদেশের মাটির পুতুল তৈরি করেছেন। এই পুতুলগুলোর বৈশিষ্ট্য হল, প্রত্যেকটি ভিতর ফাঁপা এবং হাতে টেপা। বহু শিল্পেরই জনক পুতুল। পুতুল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেন, দেশকালের বেড়া ডিঙিয়ে পুতুল চর্চা প্রসারিত হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
advertisement
এই বিষয়টি সর্বসমক্ষে তুলে ধরতেই পুতুলের সিরিজের ভাবনা তাঁর মাথায় আসে। বিদেশি পুতুল ছাড়াও দেশের ঐতিহ্যবাহী হরপ্পা মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতার একাধিক পুতুল তৈরি করেছেন মোহন মান্না। ভারতে বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমনও অনেক পুতুল তৈরি করেছেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন মণিপুরের পুতুল, বিষ্ণুপুরের পুতুল ও গালা পুতুলের ছাঁচে গড়েছেন তাঁর শিল্পকর্মে। মোহনের বাড়ির পাশে বিখ্যাত চিত্রকর পাড়া। সেখানে ছোটবেলায় বাবা জ্যোতিরিন্দ্রের সঙ্গে যেতেন। সেখান থেকেই মোহনের শিল্পের প্রতি টান বাড়ে। তৈলচিত্রে তাঁর বিশেষ দখল রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, পুতুলের ভুবনজোড়া আকর্ষণীয় জগৎ তাঁর সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তাঁর তৈরি নানা ধরনের পুতুল দেখতে অনেকেই আসেন বাড়িতে। বাড়িতেই ভাটি তৈরি করছেন মোহন। কাঁচা মাটির পুতুল পোড়ানোর জন্য। মোহন বলেন, ‘‘সেন্ট জেভিয়ার্সের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চিত্রশিল্পী প্রদীপ মাইতি আমার গুরু। গুরুর আশীর্বাদ নিয়েই এগিয়ে চলতে চাই।’’ মোহন দেশ-বিদেশের নানা ধরনের পুতুল নিয়ে প্রদর্শনী করার পরিকল্পনা করছেন। ইতিমধ্যে তাঁর তৈরি “রাধাকৃষ্ণ যুগল” পুতুল বিশ্ব বাংলার স্টলে স্থান পেয়েছে। এইধনের কাজ করতে গিয়ে শিল্পী রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বহু গুনীর সান্নিধ্যে লাভ ও তাঁদের পরামর্শ লাভ হয়েছে। মোহনবাবুর স্বপ্ন শান্তিনিকেতনের ধাঁচে শিল্প শহর হলদিয়ায় পরিবেশ গড়ে তোলার। হলদিয়া পৌরসভার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলে জানান তিনি।





