সেই দক্ষতাই তাঁকে শিশু সাহিত্যের এক পরিচিত মুখ করে তুলেছে। ১৯৯২ সাল থেকে ছোটদের জন্য লেখালেখি শুরু করেন বিকাশ পণ্ডিত। তখন অবশ্য উদ্দেশ্য ছিল শুধুই শিশুদের আনন্দ দেওয়া। ছড়া ও কবিতার মাধ্যমে ছোটদের হাসানোই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই লেখালেখির দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। তিনি উপলব্ধি করেন, শিশুদের কল্পনাশক্তি বাড়াতে বইয়ের বিকল্প নেই। সেই ভাবনা থেকেই একের পর এক শিশুতোষ গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। তাঁর লেখা ‘বিজ্ঞানের ছড়া ও কবিতা’ বইটি শিশুদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে সহজ ভাষায় ছড়ার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।
advertisement
পাশাপাশি ‘ভোরের আকাশ’ সহ আরও বেশ কয়েকটি বই ছোটদের পাঠকসমাজে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। শুধু বই লেখাই নয়, ২০০৮ সাল থেকে তিনি আকাশবাণী কলকাতার নিয়মিত লেখক। আকাশবাণীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর লেখা ছড়া ও কবিতা সম্প্রচারিত হয়েছে। রাজ্যের নানা প্রান্তের শিশুরা তাঁর লেখার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যাওয়ায় বই থেকে মুখ ফেরাচ্ছে অনেকেই। এই প্রবণতা তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। সেই কারণেই তিনি আরও বেশি করে শিশু সাহিত্য রচনায় মন দেন। তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে শিশুদের মানসিক বিকাশ আরও সুদৃঢ় হবে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শিশুদের গ্রন্থমুখী করতে তাঁর প্রচেষ্টা আজও থেমে নেই। তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘ত্রিরত্ন’ রামকৃষ্ণ, সারদা দেবী ও বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা। এই বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘বাংলা সাহিত্যের দিক বলয়’-এ বাংলা সাহিত্যের নানা দিক তুলে ধরেছেন। ‘হীরেমতির উপাখ্যান’ সহ আরও বহু লেখা তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। নিরলসভাবে শিশু সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাওয়া এই মানুষটির কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশংসার। তাঁর এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাতেই হয়।





