সকাল থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে রঙিন পোশাক পরে মডেল সেজে হাজির হয় খুদে পড়ুয়ারা। কারও পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক, কেউ আবার সেজেছিল আধুনিক সাজে। কেউ বই, কেউ বীণা, কেউ বা ফুল হাতে নিয়ে র্যাম্পে হাঁটে। ছোট ছোট পায়ে আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট ছিল। তাঁদের হাঁটার ভঙ্গি, অভিব্যক্তি এবং উপস্থিত বুদ্ধি দেখে অবাক হয়ে যান উপস্থিত সকলে। দর্শকাসনে বসা অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা করতালিতে উৎসাহ দেন খুদেদের। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মঞ্চে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। তাই এই র্যাম্প ওয়াক সকলের কাছেই ছিল একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।
advertisement
আরও পড়ুনঃ একই গাছে ঝুলছে দুই যুবকের দেহ! স্বরূপনগরে হাড়হিম করা কাণ্ড, এলাকা জুড়ে আতঙ্ক
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন কল্যাণ প্রধান বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের মনের ভয় দূর করা। ছোটবেলা থেকেই তাঁরা যেন আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাও সমান জরুরি। র্যাম্প ওয়াকের মাধ্যমে শিশুদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ হবে। ভবিষ্যতে তাঁরা মঞ্চে কথা বলতে বা নিজেকে প্রকাশ করতে আরও সাহস পাবে। তাছাড়া শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা তুলে ধরতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই অভিনব আয়োজনে বেজায় খুশি অভিভাবকরাও। তাঁদের কথায়, শুধু বইয়ের পড়া নয়, এমন অনুষ্ঠান শিশুদের মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। অনেকেই বলেন, আগে কখনও ভাবেননি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন সুন্দর আয়োজন হতে পারে। গ্রামের একটি সাধারণ স্কুলে এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। সরস্বতী পুজোর সঙ্গে শিক্ষা ও সৃজনশীলতার এমন মেলবন্ধন এলাকাবাসীর মন কেড়ে নিয়েছে। খুদে পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাসী হাঁটা যেন নতুন বার্তা দিল- শৈশব থেকেই সুযোগ পেলে প্রতিভা নিজেই পথ খুঁজে নেয়।





