ফাল্গুন মাসের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় মহা শিবরাত্রি। দেশের নানা প্রান্তের শৈবতীর্থের মত এখানেও নিষ্ঠা সহকারে পালিত হয় এই উৎসব। বিশেষ পুজো-পাঠের আয়োজন করা হয় মন্দিরে। ভক্তরা উপবাস থেকে প্রার্থনায় অংশ নেন। সন্ধ্যার পর বাড়ে ভিড়। রাতভর চলে নামসংকীর্তন ও ভজন। সাত দিন ধরে চলবে উৎসব ও মেলা। মন্দির প্রাঙ্গণ ঘিরে বসেছে বিভিন্ন দোকান। খেলনা, মিষ্টি, প্রসাদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এলাকাজুড়ে উৎসবের আবহ।
advertisement
এই মন্দিরের ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়। প্রায় দু’শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দির বহু ঘটনার সাক্ষী। আঞ্চলিক ইতিহাসবিদ মন্মথ দাস তাঁর ‘পটাশপুর একাল-একাল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে মন্দিরটি একচূড়া যুক্ত পাকা কাঠামো। শিবলিঙ্গের উপরিভাগে একটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নাগাসন্ন্যাসীদের বহন করা এই শিবলিঙ্গের মস্তকে একসময় একটি মুকুট বা মণিখণ্ড ছিল। এখানে এসে শিবলিঙ্গ অনড় হয়ে গেলে তাঁরা অস্ত্রাঘাতে সেই মণিখণ্ড বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যান। সেই চিহ্ন আজও দেখা যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শিবরাত্রির সাতদিনের মেলার পাশাপাশি চড়ক ও গাজনের সময়ও এখানে কয়েকদিন ধরে মেলা বসে। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন মানত পূরণ করতে। বহু বছর ধরে এই উৎসব গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এটি এক সামাজিক মিলনক্ষেত্রও বটে। ছোট বড় সবার উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে টনিয়াবিলা গ্রাম। মহাদেবের আরাধনায় মুখর থাকে গোটা এলাকা।





