পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ায় এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সুতাহাটা থানার অন্তর্গত বাড়–বাসুদেবপুরের ঘোষের মোড় এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরবাইকের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০ জনের বেশি বাসযাত্রী।
advertisement
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম অরূপ মণ্ডল (৫০), প্রতিমা মণ্ডল (৪৫) ও সুজিতা মণ্ডল (১৩)। তাঁদের বাড়ি সুতাহাটা থানার কৃষ্ণনগর এলাকায়। জানা গিয়েছে, তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। সম্পর্কে বাবা, মা ও মেয়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাস চালক মহাদেব শাসমলের (৪৫)।
শনিবার সকালে একই পরিবারের তিনজন বাড়ি থেকে বাইকে করে ব্রজলালচকের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। সেই সময় হলদিয়া টাউনশিপ থেকে কুঁকড়াহাটির দিকে যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে বাইকে ধাক্কা মারে এবং পরে রাস্তার পাশে থাকা জলের পাইপের লোহার খাঁচায় ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের জেরে বাস ও বাইক দু’টিই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন বাইকে থাকা তিনজন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় কার্যত মণ্ডল পরিবারের সকল সদস্যই চলে গেলেন, যা এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত বাসযাত্রীদের প্রথমে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাম্রলিপ্ত গভারমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। একজনকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে। বাকি আহতদের হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাম্রলিপ্ত গভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে বাস চালক মহাদেব শাসমলেরও মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি হলদিয়া পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বনমালী চক এলাকায়।
বাসের যাত্রীরা জানান, বাসের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি রাস্তার পাশে পাইপ লাইনে বাসটি ধাক্কা মারে। বাসের মধ্যেই অনেকেই আহত হয়। বাস থেকে নেমে দেখলাম এক বাইক চালক সহ মোট তিনজন দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সুতাহাটা থানার পুলিশ আধিকারিকেরা। পরে আহতদের দেখতে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে যান জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল, হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাঁরা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
জেলাশাসক ও বিধায়িকা জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি আহতদের সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেবে বলেও জানানো হয়েছে।” দুর্ঘটনা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। তা সত্ত্বেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব। ফলে আগামী দিনে দুর্ঘটনার রূপে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে সচেতন ও তার পাঠ পড়াতে অগ্রণী ভূমিকায় জেলা পুলিশ প্রশাসন।






