বাজারে কীটনাশকযুক্ত শাকসবজি নিয়ে বরাবরই স্বপনবাবুর আপত্তি ছিল। তিনি মনে করতেন, প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে আমরা বিষ খাচ্ছি। এদিকে পরিবারের সুস্বাস্থ্য তাঁর কাছে সবার আগে। এই অবস্থায় নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন।
advertisement
এবার প্রশ্ন ওঠে, শহরের ভিড়ে চাষের জমি কোথায় পাবেন? এই প্রশ্নই স্বপনবাবুকে ভাবিয়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত ছাদকেই বেছে নেন তিনি। নিজের বাড়ির ছাদকেই বানিয়ে তোলেন ছোট্ট এক সবুজ খামার। বাড়ির তিনতলা ও চারতলায় নির্দিষ্ট জায়গা বেছে নেন স্বপনবাবু। সেখানে বড় বড় টব ও বেড তৈরি করেন। মাটি, গোবর সার এবং জৈব উপাদান দিয়ে প্রস্তুত করেন চাষের ক্ষেত। খুব অল্প জায়গাতেই শুরু হয় তাঁর পরীক্ষা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সবুজের পরিমাণ। এখন তাঁর ছাদের বাগানে রয়েছে কাঁচা লঙ্কা, বেগুন, বরবটি, মুলো, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি সহ নানা ঋতুর সবজি।
মৌসুম বদলালে ফসলও বদলায়। সব কিছুই পরিকল্পনা মেনে করেন স্বপনবাবু। জল দেওয়া থেকে শুরু করে পরিচর্যা, সবটাই নিজের হাতে করেন। তাঁর কথায়, শুরুতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। সেই টাকায় দোতলা ও তিনতলায় কৃত্রিম ক্ষেত তৈরি করেন। পরে ধীরে ধীরে আরও কিছু বাড়ান। তিনি সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করেন। রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট থেকেও তৈরি করেন কম্পোস্ট। কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করেন না। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করেন প্রাকৃতিক উপায়। জৈব দ্রবণ ব্যবহার করে গাছকে সুরক্ষা দেন। ফলে তাঁর উৎপাদিত সবজি একেবারে নিরাপদ। পরিবারের সদস্যরা নির্ভয়ে সেই সবজি খান। বাজারের ওপর নির্ভরশীলতাও অনেকটাই কমেছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ভূগোলের শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের পরিবেশের গুরুত্ব শেখান স্বপনবাবু। বাস্তব জীবনেও সেই শিক্ষা প্রয়োগ করেন। তাঁর এই উদ্যোগ এলাকায় নতুন দিশা দেখাচ্ছে। অনেকেই এখন তাঁর বাড়িতে গিয়ে ছাদ বাগান দেখে আসেন। কেউ কেউ তাঁর পরামর্শও নিচ্ছেন। শহরে জমির অভাব থাকলেও ইচ্ছাশক্তি থাকলে পথ বের হয়, সেটাই প্রমাণ করেছেন এগরার এই শিক্ষক। স্বপন দত্ত দেখিয়ে দিয়েছেন, সচেতনতা থেকেই পরিবর্তনের শুরু। তাই তাঁর ছাদের সবুজ বাগান এখন কীটনাশকবিহীন শাকসবজি চাষে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।





