পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার অনন্ত মাইতি। ছোটবেলা থেকেই যার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় জুড়ে গান আর সংগ্রাম। সংগ্রামের সেই দিনগুলো সহজ ছিল না। প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। গান শেখার খরচ জোগাড় করাই ছিল বড় লড়াই। তবুও থেমে যাননি অনন্ত বাবু। একটার পর একটা মঞ্চে গান গেয়ে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। তার কণ্ঠের মাধুর্য মুগ্ধ করত শ্রোতাদের। ধীরে ধীরে গানের জগতে নিজের জায়গা করে নেন তিনি। জীবনের কঠিন সময়ে গানই ছিল তার শক্তি। গানই তাকে বাঁচার রসদ জুগিয়েছে। সেই সময় থেকেই মনে মনে ঠিক করেছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি নিজেও ছাত্রছাত্রী তৈরি করবেন।
advertisement
পরবর্তীতে নিজের বাড়িতেই গড়ে তোলেন একটি গানের স্কুল। ছোট্ট উদ্যোগ থেকেই শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। আজ সেই স্কুলে রয়েছে ১৫০-র বেশি ছাত্রছাত্রী। কেউ কেউ আজ বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মঞ্চ কাঁপাচ্ছে। আবার কেউ প্রতিষ্ঠিত গানের অধ্যাপিকা। অনন্ত বাবুর কাছে গান শেখা মানে শুধু সুর বা তাল নয়। তিনি ছাত্রছাত্রীদের শেখান জীবনের লড়াইও। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই শেখান কীভাবে প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন আঁকড়ে ধরতে হয়।
বয়সের ভার এখন ধীরে ধীরে তাকে দমিয়ে দিতে চাইছে। তবুও গানের প্রতি তার ভালোবাসা আজও অটুট। যে ভালবাসায় একদিন ঘর ছেড়েছিলেন, তা সহজে হার মানে না। আজ তাকিয়ে দেখলে বিস্মিত হতে হয়। যিনি গানের জন্য ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, তার ছাত্রছাত্রীরাই আজ প্রতিষ্ঠিত। অনন্ত বাবুর এই জীবন সংগ্রাম প্রমাণ করে, ইচ্ছে শক্তি আর সঠিক লক্ষ্য থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই।





