পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ২ ব্লকের দক্ষিণ খাড় গ্রামের হরিপদ আচার্য। জন্ম ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি। জীবনের দীর্ঘ পথে দেখেছেন ইতিহাসের বহু অধ্যায়। দেখেছেন ভারত স্বাধীন হওয়ার সেই সময়। দেখেছেন ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচার। দেখেছেন পটাশপুর এলাকায় ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল দিন। সেই সময়ের স্মৃতি আজও তাঁর মনে টাটকা। সেই অভিজ্ঞতাই তিনি তুলে ধরছেন লেখার মাধ্যমে। তাঁর কলমে উঠে আসছে গ্রামবাংলার ছবি। উঠে আসছে সংগ্রাম, শিক্ষা আর মানবিকতার গল্প।
advertisement
আরও পড়ুন: চোখের পলকে ধূলিসাৎ আস্ত বাড়ি, নর্দমা খুঁড়তে গিয়ে নবগ্রামে বড় বিপর্যয়! অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা
শিক্ষাজীবন শুরু হয় খাড় স্কুলে। পড়াশোনা শেষ করে তিনি শিক্ষকতায় যোগ দেন। কর্মজীবনের শুরু এগরা আকলাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেই সময় ছিল অভাবের দিন। বিদ্যালয়ের নিজস্ব ঘর ছিল না। গ্রামের একটি মন্দিরেই মাদুর পেতে পড়ুয়াদের পড়াতেন তিনি। বর্ষায় ছাদ ফুঁড়ে জল পড়ত। গ্রীষ্মে রোদের তাপে হাঁসফাঁস করতেন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। তবু শিক্ষা থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি। নিষ্ঠা আর পরিশ্রমে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছান প্রধান শিক্ষক হিসেবে। খাড় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই অবসর নেন তিনি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অবসর নেওয়ার পরেও থেমে থাকেননি হরিপদ আচার্য। আজ নব্বই বছর বয়সেও তিনি সক্রিয়। লিখে চলেছেন একের পর এক বই। নিজের সারা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন কবিতা ও ছোট গল্পে। এখনও প্রতিদিন বই পড়েন। নিজের বাড়িতেই তৈরি করেছেন ছোট্ট একটি বাগান। নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করেন। ফুল আর গাছের যত্ন নিতে দেখলে বিশ্বাসই হয় না তাঁর বয়স নব্বই। হার মানা শব্দটি যেন তাঁর অভিধানে নেই। কলম আর সৃষ্টিই আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শখ।





