ছোটবেলা থেকেই তালের নেশা দেবর্ণার। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে হাতেখড়ি। বাবা দেবব্রত মান্না নিজে তবলার প্রশিক্ষক। বাবার কাছেই প্রথম পাঠ শুরু দেবর্ণার। তবে পথটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। গ্রামের লোকের বাঁকা নজর এবং প্রতিবেশীদের টিপ্পনী শুনতে হয়েছে তাঁকে। “মেয়ে হয়ে তবলা কেন?” বহুবার সম্মুখীন হয়েছেন এই প্রশ্নের। কিন্তু মেয়ের জেদ এবং বাবার অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে সব কটুক্তি। বর্তমানে তাল-ঋষি অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের কাছে তালিম নিয়ে নিজেকে আরও শাণিত করছেন কোলাঘাটের এই মেয়ে। তাঁর সাফল্যের মুকুটে জুড়ে চলেছে একের পর এক পালক।
advertisement
আরও পড়ুনঃ ভদ্রেশ্বর থেকে গাড়ি নিয়ে বুদবুদ! নকল চাবি ব্যবহার করে লরি চুরির চেষ্টা, গ্রেফতার চালক
দেবর্ণার সাফল্যের ঝুলি এখন রীতিমত ঈর্ষণীয়। ২০২১ সালে জাতীয় স্তরের তবলা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। পরের বছর ২০২২ আন্তর্জাতিক তবলা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার। এরপর ২০২৪ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত অ্যাকাডেমি আয়োজিত তবলা প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন কোলাঘাটের কন্যা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনলাইনে আয়োজিত ‘তাল-তন্ত্র’ একক তবলা লহরা প্রতিযোগিতায় দেশের সেরা হওয়ার শিরোপাও উঠেছে দেবর্ণার মাথায়। বর্তমানে তবলার টোকায় ফিরেছে সংসারের হাল।
দেবর্ণার এই সাফল্য শুধু খ্যাতি আনেনি, এনেছে লড়াইয়ের শক্তিও। তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তবলার টিউশন থেকে আসা আয়ে টান পড়েছিল। ঠিক সেই সময় বাবার ব্যাটন নিজের কাঁধে তুলে নেন দেবর্ণা। তাঁর বাবা বলেন “ছোট থেকেই ওঁর আগ্রহ ছিল। আমি চাই আগামী দিনে মানুষ ওকে একজন বড় মাপের তবলাবাদক হিসেবে চিনুক।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় একক তবলা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপার্জিত টাকায় নিজের পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি বাবার চিকিৎসা ও সংসারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এই ‘তবলা-কন্যা’। পিতৃতান্ত্রিক সমাজের প্রথা ভেঙে দেবর্ণা প্রমাণ করে দিয়েছেন, শিল্পের কোনও লিঙ্গ হয় না।





