নীল চাষের মাধ্যমে অত্যাচারের নয়া ফাঁদ পেতেছিল ব্রিটিশরা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে নীল চাষ ও বাণিজ্যের ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এই কুঠিগুলি। নীলকর সাহেবরা স্থানীয় কৃষকদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাত, যার কেন্দ্র ছিল এই ধরনের নীলকুঠিরগুলি। উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা জুড়ে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন চাষিরা। ধীরে ধীরে বন্ধ হয় নীলচাষ, কুঠিরগুলি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। কিন্তু এই স্থানগুলি যেন আজও বহন করে চলেছে ঊনবিংশ শতকের নীল বিদ্রোহের সেই কাহিনী। এলাকাবাসীদের দাবি একসময় এই জায়গাতেই ছিল নীলকুঠির। যা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কিন্তু তারা তাদের পূর্বপুরুষের কাছ থেকে শুনে এসেছেন নীলকুঠিরের নানা গল্প। কুঠিরের ভিতর ছিল বড় বড় চৌবাচ্চা, সুড়ঙ্গ আর কুঠিরের পিছন দিকে ছিল পুকুরে যাওয়ার ঘাট।
advertisement
আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চাকারী শ্যামসুন্দর বেরা বলেন, একটি তথ্য পাওয়া যায় ১৭৭৮ সালের ক্যারল সাহেব কালনায় একটি নীলকুঠির তৈরি করেছিলেন। এছাড়াও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ও বীরভূমে এই ধরনের বেশ কয়েকটি ছোট বড় নীলকুঠি ছিল। অজয় নদের মাধ্যমে নৌ-বানিজ্য হত। ১৮৫৯ নাগাদ শুরু হয় নীল বিদ্রোহ, ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় কুঠিরগুলি। ঠিক তারপরই ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচনা করেছিলেন তার নাটক নীলদর্পণ।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
নীল চাষের সেই অন্ধকার অধ্যায় পার করে আজ বাংলার কৃষকেরা স্বাধীনভাবে সোনালি ফসলে মাঠ ভরিয়ে তুলছে। কিন্তু ইতিহাসের এই ধুলোবালি মাখা সাক্ষীটিকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, যাতে আগামী প্রজন্ম জানতে পারে কোন কষ্টের বিনিময়ে আজ এই স্বাধীনতার মাটি পাওয়া গেছে।





