রাজীব মণ্ডল জানান, প্রথমবার আন্তর্জাতিক কোনও প্রতিযোগিতামূলক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। আর এমন অভাবনীয় প্রাপ্তিতে আগামীতে তাকে আরও এই ধরনের চলচ্চিত্র তৈরিতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। তার তৈরি ১৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ‘রাইজ অ্যান্ড সাইন’ চলচ্চিত্রটি উক্ত চলচ্চিত্র উৎসবে মোট ছয়টি ভিন্ন বিভাগে সেরার শিরোপায় ভূষিত হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বেস্ট স্ক্রিনপ্লে অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট স্টোরি অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট ডিরেক্টর অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট সোশ্যাল অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট বেঙ্গলি ফিল্ম এবং বেস্ট ভিশনারি ফিল্ম মেকার অ্যাওয়ার্ড এই ছয়টি বিভাগে এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান পেয়েছে।
advertisement
চলচ্চিত্রের নেপথ্যে কারিগরি দক্ষতায় অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন দিলীপ চৌধুরী, তিনি ক্যামেরা, সম্পাদনা এবং শব্দ গ্রহণের দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন রাজীব মণ্ডল স্বয়ং। এর আগেও একাধিক ছোট ছবি তৈরি করলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই প্রথম উপস্থিতি এবং তাতেই ছক্কা হাঁকানো তাকে আগামীতে আরও অর্থবহ এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটনির্ভর কাজ করতে উৎসাহিত করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি শিল্পীদের মধ্যে মাস্টারমশাই চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তিনি ছাড়া সকলেরই এটিই প্রথম চলচ্চিত্র।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পরিচালক রাজীব মণ্ডল আরও বলেন, এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে তিন দিন। মোট ১৮ জন সুদক্ষ কলাকুশলী দিনরাত পরিশ্রম করেছেন তাই অত্যন্ত সীমিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলেও মান ও উৎকর্ষের দিক থেকে কোনও খামতি ছিল না। পেশাদারিত্ব এবং দক্ষতার মেলবন্ধনে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি মূলত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সামাজিক বিষয়ের উপর তৈরি। বর্তমান ডিজিটাল যুগেও বাল্যবিবাহ এবং স্কুল ছুটের মতো বিষয় কীভাবে সমাজের একটি বড় অংশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তারই এক বাস্তবসম্মত প্রতিফলন দেখানো হয়েছে ‘রাইজ অ্যান্ড সাইন’ চলচ্চিত্রে। সরকারি স্তরে একাধিক সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
চলচ্চিত্রটির মূল বিষয়ই হল, সামাজিক এই প্রবণতার বিরুদ্ধে খোদ নাবালিকা এবং কিশোরদের সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিবাদ। শৈশব এবং কৈশোরের স্বপ্নগুলিকে যখন বাল্যবিবাহের বেড়াজালে আবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠিক কতটা হতে পারে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চলচ্চিত্রে। অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরী করা হয়েছে। ‘রাইজ অ্যান্ড সাইন’-এর মাধ্যমে এই বার্তাটিই ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে, কেবল প্রশাসনের একার চেষ্টায় নয়, বরং সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমেই এই ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব।






