বর্ধমান এক ব্লকের ছোটবেলুনের বাসিন্দা তুষার কান্তি ঘোষ পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, “বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা কিন্তু দাম নেই আলুর। আগের বছর যেখানে জমি থেকে ৪৭০ টাকা বস্তা আলু বিক্রি হয়েছিল, এবছর সেখানে মাত্র ১৮০-২২০ টাকা বস্তা দাম, তাও কেনার লোক নেই।হিমঘরে রাখতেও ১০০ বস্তায় ৫০০০ টাকা খরচ। তাতেও আলুর দাম পাব কিনা জানি না,মাঠে বিক্রি হচ্ছে না।”
advertisement
আরও পড়ুন: ৩ মিনিটেই খেল খতম! তেড়ে তেড়ে মরবে পোকামাকড়, আধুনিক যন্ত্রের ‘ম্যাজিক’ দেখে হাসি ফুটল চাষিদের মুখে
গত বছরের তুলনায় এবছরের চিত্রটা সম্পূর্ণ বিপরীত। বর্ধমান এক এবং দুই নম্বর ব্লক-সহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আলুর বাজারদর তলানিতে। প্রতি বছরের মতোই এই বছরেও লাভের আশায় বিঘার পর বিঘা জমিতে ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেছিলেন চাষিরা, আলুর ফলনও হয়েছিল খুব ভাল। কিন্তু আলু উঠতেই মাথায় হাত চাষিদের। তারা বলেন, বিঘা প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচা করে চাষ করার পরেও এখন দাম নেই আলুর। বিগত বছরগুলিতে ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই আলু কিনেত। বস্তা প্রতি ৪৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, এ বছর তার দাম দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮০ থেকে ২০০ টাকা বস্তায়। কিন্তু তাতেও এই বছরে মাঠে কোনও ব্যবসায়ীদের দেখা নেই।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জগবন্ধু মণ্ডল বলেন, “এবছর আবহাওয়া ভাল হওয়ার ফলে আলুর ভাল ফলন হয়েছে। আমরা দেখেছি উৎপাদন ভাল হলে দাম কমে। বিগত পাঁচ ছয় বছরের মধ্যে বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যবসায়ীদের বাইরে আলু রফতানি ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তারা এর থেকে কোনও রিটার্ন পাচ্ছেন না, তাদের লস হচ্ছে, তাই ব্যবসায়ীরা আলুতে ইনভেস্ট করতে চাইছেন না। মাঠে আলু বিক্রি না হওয়ায় মাথায় হাত চাষিদের। কী করে উঠবে চাষের খরচ? কীভাবে বিক্রি হবে আলু? তা নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় চাষিরা।





