কেউ তাঁর নিজের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনসঙ্গীকে গোলাপ ফুল উপহার দেন, আবার কেউ দামি গিফট উপহার দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার প্রেমিক-প্রেমিকাদের একে অপরের উপর আবদার থাকে, তাঁর মনের এই ইচ্ছে পূরণ করতে হবে। ঠিক সেই মতোই বীরভূমের বছর ১৯-এর এক যুবতী তাঁর প্রেমিকের কাছে মজার ছলেই আবদার করেছিল, ভালবাসার সপ্তাহে তাঁকে সাদা কাগজের ওপর রক্ত দিয়ে প্রেম পত্র লিখে পাঠাতে হবে, তাহলেই তিনি বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হবেন।
advertisement
ভালবাসার এই সপ্তাহে প্রেমিকা প্রেমিকের কাছে কোনও আবদার করেছে আর প্রেমিক সেটা মেটাবে না সেটা কী হয়! সংবাদ মাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বীরভূমের বাসিন্দার সেই যুবক। তিনি জানান, “আমি হাজার চেষ্টা করেও নিজের হাত কাটার সাহস পাইনি। দুদিন ধরে ভেবে দেখেছি কী উপায়ে প্রেমপত্র লিখে দেব তাকে! তবে প্রেমিকার আবদার রাখতেই আমাকে এই ধরনের পথ বেছে নিতে হয়েছে।”
তবে এবার হয়তো আপনি ভাবছেন কেমন ভাবে নিজের হাত না কেটে প্রেম পত্র লিখে দিলেন যুবক? মূলত এই যুবকের গ্রাম্য পরিবেশে বাড়ি। বাড়িতে বাবা, মা, ১৩ বছরের এক বোন নিয়ে সুখের সংসার। যুবকের বাবা ইটভাটায় কাজ করেন। মা গ্রামেরই দুটি বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি একটি অনলাইনের ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করেন। তিনি তাঁর নিজের রক্ত দিয়ে প্রেম পত্র লেখার সাহস না পেয়ে বাড়িতে থাকা ধারালো ছুরিটি হাতে নিয়ে সটান কোপ মারে তারই বাড়িতে থাকা একটি ছাগলের উপর।
আরও পড়ুন- আরও স্মার্ট হয়েছে পরীক্ষা হলে ‘টুকলি’ পদ্ধতি! চিন্তা বাড়ছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের
সেই ছাগলের রক্ত দিয়ে গড়গড়িয়ে প্রেমপত্র লিখে ফেলেন যুবক। প্রেমপত্র লিখে ফেলার পরে ছাগলটি যাতে মারা না যায় সেই জন্য তড়িঘড়ি ছাগলের চিকিৎসাও শুরু করেন তিনি। তাঁর এই কর্মকাণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই কার্যত হাসির রোল শুরু হয়েছে। অনেকেই মজার ছলে বলছেন, ‘তাদের এই ভালবাসা ইতিহাসের খাতায় লিখে রাখার মতো’ অনেকেই আবার লিখছেন ‘ এমন ভালবাসাত শাজাহান এবং মমতাজের ভালবাসাকে হার মানাবে।’






