সভ্য হওয়ার পর পেটের তাগিদে কৃষিকাজ করতে শুরু করে আদিম মানুষ। তখন থেকেই জীবিকার জন্য প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তারা। তখন তাদের কাছে ‘প্রকৃতি’ ভগবান। আকাশ, জল, আগুন, বায়ু আর মাটি তাদের দেবতা সেই আদিমকাল থেকে। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গিয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে প্রকৃতির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে চাষবাসের ক্ষেত্রে। তবুও কিছু জনগোষ্ঠী এখনও প্রকৃতির মধ্যেই দেবতাকে খুঁজে পান।
advertisement
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে এমনই বেশ কিছু জাতি-উপজাতির মানুষ। তাদের মধ্যে খস জনজাতি অন্যতম। ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গায় এই জনজাতির বসবাস। বছরের এই সময় তারা পালন করেন উধৌলি উৎসব। শীতের সময় যখন ফসল ওঠে তখন উধৌলি উৎসব আয়োজিত হয়। আরেকটি মতে বলা হয়, এই পুজো করে গৃহপালিত পশুদের নিয়ে সমতল থেকে পাহাড়ে উঠে যান খস জনজাতির মানুষেরা।
উধৌলি উৎসবটি হয় ফসল কাটার সময়ে। সেই সময় জল, বায়ু, আকাশ, মাটি আর আগুনের কাছে ভাল ফসল পাওয়ার জন্য পুজো নিবেদন করা হয়। এমনকি মাটির বুক চিরে ফসল কাটার ‘অপরাধে’ ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয় প্রকৃতির কাছে। সেই সঙ্গে ভগবান ‘প্রকৃতি’র কাছে তাদের প্রার্থনা, মাটিতে যে সব কীটপতঙ্গ থাকে তাদের যেন কোনও ক্ষতি না হয়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আবার শীতের শেষ সময় প্রকৃতিরূপী সমস্ত দেবতাকে পুজো নিবেদন করা হয়। ভাল ফসল পাওয়ার জন্য ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে পুজোটি হয়। নিজস্ব সংস্কৃতির নাচে গানে ভরপুর হয়ে উঠেছিল পাহাড়ি গ্রাম জয়গাঁ। এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ছোট মেয়েরা পঞ্চ তত্বের পুজো করছে। আয়োজক শচীন জেগরিয়া জানান, “উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ উৎসর্গ করা হয় দেবতাকে। আমরা এই পুজো বছরের পর বছর ধরে করছি।”





