এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত বুধবার অশান্তি ছড়ায় মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর এলাকায়৷ গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখা হয়৷ বিক্ষোভ অবস্থানে অবরুদ্ধ হয়ে যায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক৷ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গ সড়ক যোগাযোগ৷ এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত৷ ঘটনার সিবিআই অথবা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনকে৷ কমিশন সেই নির্দেশ কার্যকরও করতে শুরু করে৷
advertisement
কিন্তু, তার পরে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় মোফাক্কেরুল ইসলামকে। মমতা বলেন, ‘‘মালদহের ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তাকে কে গ্রেফতার করেছে জানেন তো? এই রাজ্যের সিআইডি। মহারাষ্ট্র থেকে আসছিল। এনআইএ আসার আগেই বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজেপি এজেন্সি পাঠিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইছে। বলছে টাকা দেব। ভুলেও অ্যাকাউন্ট নম্বর দেবেন না।’’
জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে এই AIMIM নেতাকে দেখা গিয়েছিল মালদহের কালিয়াচকের ২ ব্লকের অফিসের বাইরে জোটবদ্ধ জনতার সামনে ভাষণ দিতে। একটি গাড়ির বনেটে উঠে তিনি যে ভাষণ দিচ্ছিলেন। যেটি উস্কানিমূলক ছিল বলেই মত অধিকাংশের। এই উস্কানির জেরেই বিক্ষুব্ধ মানুষ ৭ বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করেছিলেন বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন: এসআইআর বিতর্কে স্বস্তির বার্তা! বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরাতে বড় উদ্যোগ প্রশাসনের
বাগডোগরা থানাতেই রাখা হয়েছে ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলামকে। গ্রেফতারের পর তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ফেসবুক লাইভ করেন। বর্তমানে সেই ফেসবুক লাইভ ডিলিট করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ধৃতকে জেরা করতে আসছেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার বলে খবর।
ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করতেন। হাইকোর্টের কাছেই তাঁর চেম্বার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কলকাতায় থাকেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। প্রার্থীও হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারের এমআইএম প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল।
