সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল রায়দানকালে জানান, ডিএ পরিবর্তনশীল৷ DA, AICPI মেনে দিতে হবে৷ আদালত জানিয়েছে, ডিএ দু’বার করে দেওয়া যায় না। তবে, কর্মীদের ডিএ-র দাবির আইনি সারবত্তা রয়েছে৷ তাই ডিএ দিতে দেরি করা উচিত নয়৷ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, রোপা রুল এবং এআইসিপিআই মেনে ডিএ দিতে হবে৷ ডিএ দিতেই হবে, জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত৷
advertisement
আদালত জানিয়েছে, রায় দিতে গিয়ে ১৩ প্রশ্ন বিবেচনায় এনেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ কোর্ট জানিয়েছে, ‘‘১৩ প্রশ্নেই উত্তর দিয়েছি আমরা৷ প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ডিএ পরিবর্তন শীল৷ ডিএ এআইসিপিআই মেনে পরিবর্তনশীল৷ এআইসিপিআই ওয়ানটাইম মেজার নয়৷ আমরা বলেছি, আর্টিকল ৩০৯ মেনে রাজ্যেরই এক্তিয়ার আছে। যাঁরা অবসর পেয়েছেন এখনও পর্যন্ত তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন৷’’
সুপ্রিম কোর্ট এদিনের রায়ে জানিয়েছে, রায় কার্যকর করার জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে৷ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা হবে৷ এই কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে কত ডিএ দেওয়া হবে৷
আগামী ৬ মার্চের মধ্যেই গঠন করতে হবে কমিটি৷ ১৫ মে-র মধ্যে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ দিতে হবে৷ ৬ মার্চ মধ্যে বকেয় ডিএ প্রথম ইনস্টলমেন্ট, অর্থাৎ প্রথম কিস্তি৷ ৩১ মার্চ মধ্যে কমিটির আলোচনা সাপেক্ষে দ্বিতীয় কিস্তি৷ মে মাসের মধ্যে বকেয়া DA মেটানো নিয়ে রিপোর্ট দেবে কমিটি।
অন্যদিকে, শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ডিএ মৌলিক অধিকার নয়। রাজ্যের এই আবেদনে মান্যতা সুপ্রিম কোর্টের।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের আবেদন খারিজ করে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে রায় দিয়েছিল হাই কোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। সেই মামলায় রাজ্যকে আগেই বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এ জন্য ছ’সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারেনি।
আদালতের কাছ থেকে আরও ছ’মাস সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৪ অগস্ট থেকে ৭ অগস্ট প্রতি দিনই শুনানি চলেছে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে। এর পরে গত ১২ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত ৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ হয়। আজ ছিল রায়দান৷
