গত ১৫ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন চন্দননগরের ‘পাহাড় কন্যা’ পিয়ালী। লক্ষ্য ছিল, শীতকালে মাকালু পর্বত শৃঙ্গ জয়। কিন্তু এবার খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে। এর আগে গরমে মাকালু, ধৌলাগিরি, লোৎসে, মানাসুলু, অন্নপূর্ণা, এভারেস্ট জয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তবে ডিসেম্বর-জানুয়ারির শীতে মাকালু অভিযানের অভিজ্ঞতা ছিল না। এই অভিযান ছিল খুবই কঠিন।
advertisement
পিয়ালী বলেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির সময় মাকালু সামিটের জন্য গিয়েছিলাম। অভিযান খুব ভাল করেই এগোচ্ছিল।আমরা আলপাইন টেকনিকে অর্থাৎ কোনও দড়ি ছাড়া, কোনও রকম সেফটি ছাড়া শীতকালে মাকালু আরোহণ করছিলাম। কঠিন বরফের মধ্যে এই অভিযান শুরু হয়েছিল। ২০২৩ সালে গরমকালে মাকালু সামিট করেছিলাম। বাতাসে অক্সিজেন নেই, মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রা ও ১৪০-১৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়ায় পর্বতে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন ছিল। শীতকালে মাকালু অভিযানে পৃথিবীর কেউ এখনও সফল হয়নি। আমরা ক্যাম্প ৩ অবধি কোনও রকমে পৌঁছে গিয়েছিলাম। অনেক চেষ্টা করলেও সামিটে পৌঁছনো যায়নি।
সেখানকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চন্দননগরের ‘পাহাড় কন্যা’ বলেন, মাঝপথে আমার অক্সিজেন মাস্ক কাজ করছিল না। নেপালের শেরপা ও ইরানের পর্বত আরোহী সামিট করে ফেরার পর তাঁদের মাস্ক নিয়ে আমার সামিট করার কথা ছিল। ফুর্বা ওঙ্গেল ও ইরানের আবুল ফজল গোজালি সামিট শেষ করে ২৭ হাজার ফুটে নিখোঁজ হয়ে যান। দু’জনকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। রেসকিউ-এর জন্য চারজন শেরপা যান। মাঝখানে শেরপা রেসকিউ টিমের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খারাপ আবহাওয়া এবং শেরপাদের ক্লান্তির কারণে অসুস্থ হয়ে পরে। তাঁদের সাহায্য করতে আর একটা পাঁচ জনের শেরপা টিম রেসকিউতে সাহায্য করার জন্য আসে। হাওয়ায় উপরের ক্যাম্পে তাঁবু ও সাতটি অক্সিজেন সিলিন্ডার উড়িয়ে নিয়ে চলে যায়।
পিয়ালী বলেন, আমার সামিট সম্পূর্ণ হলে ভারতের জন্য একটা বড় সাফল্য হত। আমি এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলাম এটা আমার কাছেই বড় ব্যাপার। ফের চেষ্টা করব। এমনিতেই বাড়ি বন্ধক দিয়ে ও ঋণ করে এই সামিট করতে এসেছিলাম। সরকারিভাবে সেই ভাবে সাহায্য পাওয়া যায় না। পর্বত আরোহণে নিজের একটু ভুলেই দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা নিয়েই আগামী দিনে আবার পর্বত আরোহণ করব।
