শুক্রবার ঝড়খালি গ্রাম সংলগ্ন ঝোপঝাড়ে বাঘ ঢোকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। গ্রামবাসীরা ঘর থেকে বেরোনো বন্ধ করে দেন, সন্ধ্যার পর কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে এলাকা। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বনদফতরের ঝড়খালি বিটের কর্মীরা নাইলনের জাল টাঙিয়ে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেন। কুলতলি থেকে আনা হয় ৩৩ সদস্যের বিশেষ টাইগার রেসকিউ টিম। বাঘটিকে নিরাপদে আটক করতে দু’টি খাঁচাও পাতা হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শুক্রবার থেকেই ঝড়খালির অ্যানিম্যাল পার্ক পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়।
advertisement
তল্লাশিতে বনকর্মীদের নজরে আসে, দু’টি নাইলন জালের সংযোগস্থলের একটি অংশ ছিঁড়ে গেছে। সেই ফাঁক গলেই বাঘটি বেরিয়ে যায় বলে অনুমান। পরে নদীর পাড়ে পায়ের ছাপ ও চলাচলের চিহ্ন দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, বাঘটি হেড়োভাঙা নদী সাঁতরে জঙ্গলে ফিরে গেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিএফও নিশা গোস্বামী জানান, আমরা জায়গাটি জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছিলাম এবং খাঁচাও পাতা ছিল। কিন্তু বাঘটি জাল টপকে নদী পেরিয়ে জঙ্গলে ফিরে গেছে। সাধারণত শীতকালে খাবারের সন্ধানে বাঘ লোকালয়ে ঢোকে, কারণ নদী-খালে জল কমে যায়। তবে এবার গরমের শুরুতেই বাঘের গ্রামে ঢুকে পড়া বনদফতরকে ভাবাচ্ছে। কুলতলি ও সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েক মাসে একাধিকবার বাঘ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। বন আধিকারিকদের মতে, জঙ্গল ঘেঁষা গ্রাম এবং নদীর মাঝে তৈরি হওয়া চওড়া চর বাঘের চলাচল সহজ করে দিচ্ছে। আতঙ্ক কেটে গেলেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বাসিন্দাদের।
