স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত ওই যুবকের নাম নাসির আলি (৩৬)৷ তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নাসিরের স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল অভিযুক্ত বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডলের৷ পথে কাঁটা সরাতেই নাসিরকে খুনের ছক কষেন তিনি৷
গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাসির৷ তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এসআইআর-এর কাজে মায়ের আধার এবং ভোটার কার্ডের জেরক্স লাগবে বলে ওই দিনই তাঁকে এইআরও পরিচয় দিয়ে ফোন করেছিলেন এক ব্যক্তি৷ নথি নিয়ে কোথায় যেতে হবে, ফোনে তাও বলে দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি৷ সেই ফোন পেয়েই তড়িঘড়ি মায়ের নথি নিয়ে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যান নাসির৷ এর পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান নাসির৷
advertisement
গভীর রাত পর্যন্ত নাসির না ফেরায় বাদুড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে তাঁর পরিবার৷ গত ১০ তারিখ বাঁদুড়িয়ার একটি খালের পাশে নাসিরের জুতো পাওয়া যায়৷ সেই জুতোর নিশানা ধরে এগিয়ে খালের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় নিখোঁজ যুবকের মোটরসাইকেল৷ যদিও নাসিরের খোঁজ মেলেনি৷ নিখোঁজ যুবককে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভও দেখান৷
শেষ পর্যন্ত নাসিরের ফোনের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে অভিযুক্ত বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডলের খোঁজ পায় পুলিশ৷ ওই বিএলও-কে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা যায়, খুন হয়েছেন নাসির আলি৷ পুলিশি জেরার মুখে রিজওয়ান স্বীকার করেন, নাসিরকে খুন করে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে বাদুড়িয়ায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন খাল এবং নদীতে ছোট ছোট ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয়েছে৷ খুন এবং দেহ লোপাটে ওই বিএলও-কে সাহায্য করে রিজওয়ানের বন্ধু সাগর গাইন৷ দু জনকেই গ্রেফতার করে নাসিরের দেহাংশের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ৷ বাদুড়িয়ায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন খাল এবং ব্রিজের নীচ থেকে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যাগের ভরা নাসিরের দেহাংশ পুলিশ উদ্ধারও করেছে৷ হাড় হিম করা এই হত্যাকাণ্ডের কথা জেনে স্তম্ভবিত বাদুড়িয়ার বাসিন্দারা৷
