১৯৭৪ সালে ঘটনার সূত্রপাত। দুবরাজপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা সাড়ে আট শতক জমি ও বাড়ি জনৈক হরিরাম খাণ্ডেলওয়ালকে ভাড়া দিয়েছিলেন দু’ই ভাই সতিরাম মাহাতা ও মুচিরাম মাহাতা। অভিযোগ ওঠে, ভাড়াটিয়া ঠিক মতো ভাড়া দিচ্ছিলেন না। এরপরেই ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন মাহাতা ভাইয়েরা। ১৯৭৬ সালে আদালত বাড়িওয়ালার পক্ষে রায় দিলেও আইনি জটিলতা ও উচ্চতর আদালতে আপিলের কারণে সেই রায় কার্যকর হতে কেটে যায় কয়েক দশক।
advertisement
আরও পড়ুনঃ সহযাত্রী সেজে চলন্ত অটোয় চুরি! হাতেনাতে ধরা পড়লেন ২ মহিলা, শহর জুড়ে আতঙ্কের আবহ
দীর্ঘ ৫০ বছরে অনেক জল গড়িয়েছে। মূল মামলাকারী সতিরাম ও মুচিরাম মাহাতা এবং বিবাদী হরিরাম খাণ্ডেলওয়াল কেউই আজ বেঁচে নেই। পরবর্তীকালে মামলা লড়েছেন তাঁদের ছেলে ও নাতিরা। বদলেছে আইনজীবীও। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুবরাজপুর আদালত উচ্ছেদের চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, প্রয়োজনে তালা ভেঙে ডিক্রিদারকে দখল বুঝিয়ে দিতে হবে। বীরভূম জেলা পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় আদালতের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ ও আদালতের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে জমির দখল বুঝে নেন মাহাতা পরিবারের বর্তমান সদস্যরা।
আইনজীবী স্বরূপ আচার্য বলেন, “এটি দুবরাজপুর আদালতের অন্যতম প্রাচীন মামলা। ১৯৭৪ সালের ১১১ নম্বর মামলাটি অবশেষে আজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হল। বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার কারণে জজ কোর্ট থেকে হাইকোর্ট হয়ে মামলাটি ঝুলে ছিল। তিন প্রজন্ম পর মক্কেলকে তাঁর অধিকার ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা খুশি।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পরিবারের পক্ষে মাধব মোহন ত্রিবেদী বলেন, “আমাদের দাদুরা এই লড়াই শুরু করেছিলেন। তাঁরা দেখে যেতে পারেননি। আমরা নাতিরা আজ সেই অধিকার ফিরে পেলাম। ভাড়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমস্যা শুরু হয়েছিল, আজ পুলিশ ও আদালতের সহায়তায় তার ইতি ঘটল। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”





