ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা বেজে ৪৫ মিনিট। হঠাৎ-ই এক যুবক থানায় এসে হাজির। ডিউটি অফিসার তাঁকে বসতে বলে অন্য কাজে মন দিতেই যুবক বলে ওঠে, ‘‘আমি চিকিৎসককে খুন করে এসেছি।’’ শুনেই পুলিশ অফিসার চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে হাজির হন বর্ধমান শহরে বাদামতলায় চিকিৎসকের চেম্বারে। চিকিৎসকের চেম্বারে পৌঁছে পুলিশের চক্ষু চড়কগাছ। রক্তাক্ত অবস্থায় চেম্বারের মেঝেতে পড়ে আছেন চিকিৎসক। তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
advertisement
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত যুবক জানিয়েছে,বেশ কিছুদিন ঠাকুমার চিকিৎসা চলছিল ওই চিকিৎসকের কাছে। গত ১ মাস আগে ঠাকুমার মৃত্যু হয়। ভুল চিকিৎসায় ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে এই অভিযোগে আজ দুপুরে সটান চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে কাটারির কোপ মারে চিকিৎসককে।
সূত্র মারফৎ জানা গেছে, খুনি বাদামতলার চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসক রাজা ভৌমিককে খুন করে নিজেই বর্ধমান থানায় হাজির হয়ে যায়। পরে পুলিশ খুনি কে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খুন করার পর খুনি গত ডিসেম্বর মাসে তার ঠাকুমার একটি প্রেসক্রিপশন সঙ্গে করে নিয়ে থানায় হাজির হয়ে গিয়েছিল। তাঁর দাবি ছিল, হাড়ের ডাক্তার (আরএমপি) রাজা ভৌমিক তার ঠাকুমায়ের ভুল চিকিৎসা করায় তার ঠাকুমা মারা যায়। আর সেই আক্রোশে এদিন চিকিৎসকের উপর হামলা চালায় সে।
যদিও পুলিশ গোটা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাদামতলায় যে ঘরটিতে খুনের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ সেটিকেও আপাতত সিল করে দিয়েছে।
