বাঁকুড়া তো বটেই, রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মুকুটমণিপুর। তবে শুধু পর্যটনের গুরুত্বেই নয়, বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর জলাধার পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম আবাসস্থল হিসেবেও অত্যন্ত পরিচিত। প্রতি বছর শীত পড়লেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি এখানে উড়ে আসে। জলাধারের পাশে থাকা ঝোপঝাড়ে তাঁরা বাসা বাঁধে। জল, জঙ্গল ও পাহাড়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি জলাধারের জলে দিনভর হাজার হাজার পরিযায়ী পাখিদের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে পর্যটকদের সময় কেটে যায়।
advertisement
সম্প্রতি নিয়ম মেনে এই মুকুটমণিপুর জলাধারে পরিযায়ী পাখি গননা করতে নামে বন দফতর ও একটি গবেষণা সংস্থা। তাতেই উঠে আসে মারাত্মক তথ্য। জানা যায়, গত কয়েক বছরে একটু একটু করে কমতে কমতে চলতি বছর উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে মুকুটমণিপুরে আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যা। তবে শুধু সংখ্যা হ্রাসই নয়, নর্দার্ন পিনটেলের মতো বেশ কিছু প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এই বছর মুকুটমণিপুরমুখো হয়নি।
পক্ষী গণনার এই তথ্য হাতে উঠে আসতেই বন দফতরের অন্দরে রীতিমতো উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পরিযায়ী পাখির সংখ্যা হ্রাসের কারণ খুঁজতে তৎপর হয়েছে বন দফতর ও পক্ষী গবেষকেরা। বন দফতর ও পক্ষী গবেষকদের একাংশ মনে করছেন, এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাঁদের ধারণা, জলাধার সংলগ্ন কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ ও প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে জলাধারে জলের মান খারাপ হয়ে থাকতে পারে।
এছাড়া প্রতি বছর ক্রমবর্ধমান পর্যটকের সংখ্যা, জলাধারে পর্যটকদের নিয়ে যথেচ্ছ মোটরচালিত নৌকার আনাগোনা এবং অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার জালের ব্যবহারের কারণেও মুকুটমণিপুর জলাধারকে আর খুব একটা নিরাপদ মনে করছে না পরিযায়ী পাখিরা। এর জেরেই ধীরে ধীরে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমছে। পরিযায়ী পাখির সংখ্যা হ্রাসের কারণ জানতে জলাধারের জলের মান পরীক্ষা ও যথেচ্ছ মোটরচালিত নৌকা চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাশ টানার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বন দফতর।
