ধৃতের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, সে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস (ISIS) ও আল-কায়েদার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলায় একটি বিশেষ মডিউল তৈরির চেষ্টা করছিল। খাতড়া মহকুমা আদালতে পেশ করার পর বিচারকের নির্দেশে তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে অন্ধ্রপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
advertisement
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তেলেঙ্গানায় ধরা পড়া তিন জঙ্গির মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ঘেঁটে আসিফের নাম সামনে আসে। তার ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে হাতে একে-সিরিজের রাইফেল নিয়ে একটি ছবিও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে।
আরও পড়ুন: বিধানসভা ভোটের আগে নগদ টাকা উদ্ধার নিয়ে কিছু জেলার ভূমিকায় খুশি নয় নির্বাচন কমিশন
এছাড়াও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দেশবিরোধী কার্যকলাপে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নাশকতামূলক নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। যার ভিত্তিতেই ভিনরাজ্যের পুলিশ এই অভিযান চালায় এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে।
অন্যদিকে, ধৃতের পরিবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসিফকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, আসিফ উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর একাধিক ব্যবসায় চেষ্টা করেও সফল হয়নি। আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে সে কাজের খোঁজে দিল্লিতে আত্মীয়দের কাছে গিয়েছিল। ছেলের গ্রেফতারির খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা। তার বাবা ও জেঠু ইতিমধ্য়েই আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে অন্ধ্রপ্রদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন এবং দ্রুত ছেলের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাঁকুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু না জানান হলেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের চার সদস্যের একটি দল এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল। এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা খাতড়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন আসিফ একাই এই কাজ করছিল নাকি এই এলাকায় আরও কেউ এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
