গুজবে কান না দেওয়ার আবেদনে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের। গুজব মোকাবিলায়, এসডিপিও শামিম বিশ্বাস ও আইসি কৌশিক কুমার সাউ-এর নেতৃত্বে টহল চলছে গ্রামে গ্রামে। ঝাড়গ্রাম জেলার একাধিক এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। গুজবের জেরে বহু গ্রামে রাতভর স্বেচ্ছায় পাহারায় নেমেছেন গ্রামবাসীরা। বাঁশ ও লাঠি হাতে দল বেঁধে পাহারার ছবি যেন অতীতের ভয়াবহ স্মৃতিকে আবার ফিরিয়ে আনছে।
advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া, সাঁকরাইল, গোপীবল্লভপুর-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো, দরজা ভাঙচুর ও কাগজপত্র নষ্ট করার মতো ঘটনার কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নির্দিষ্ট তথ্য এখনও সামনে আসেনি। দরজা ভাঙার ঘটনাই গুজবের সঙ্গে মিশে আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সূত্রের খবর, বেশ কিছু অসাধু ব্যক্তি গুজব ছড়াচ্ছে। গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি। যদিও পুলিশ জানিয়েছে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য,তবুও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই আতঙ্কের আবহে চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্থিরতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা। অনেক পড়ুয়ার পক্ষেই পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: রোজ ১১ মিনিট ব্রিস্ক ওয়াক করুন, জীবন থেকে ওষুধ হবে মাইনাস! প্রাণশক্তি হবে প্লাস, জানুন
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করে জানায় এবং নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দেয়। যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিঘ্নিত না হয়। এদিকে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি এবং ডাকাতির কোনও নিশ্চিত ঘটনার কথা তাদের নজরে আসেনি।
গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাপন করার আবেদন জানিয়েছে জেলা পুলিশ। ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামিম বিশ্বাস এবং আইসি কৌশিক কুমার সাউ বাহিনী নিয়ে সন্ধ্যার পর গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষ কে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন করছেন। পুলিশ টহল বাড়ানো সহ একাধিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিচ্ছেন। তাদের এই উদ্যোগে গ্রামবাসী কতটা আস্বস্ত হন তা সময়ই বলবে।
রাজু সিং
