আদিবাসীদের ফুলের উৎসব বাহা। ভোটের মুখে সেই ফুলের উৎসবই মিলিয়ে দিল নির্বাচনী ময়দানে যুযুধান দুই শিবিরের দুই ফুলের সেনাপতিকে। নির্বাচনী ময়দানে লড়াই ভুলে পদ্মপুলের প্রার্থীর মাদলের বোলে নাচে পা মেলালেন ঘাসফুলের প্রার্থী। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রানীবাঁধ বাজারের এই ছবি যেন বলে গেল জঙ্গলমহলে রাজনীতির রেষারেষি যাই থাকুক না কেন সংস্কৃতি ও সৌজন্যতার প্রশ্নে আজও আদিবাসীরা রয়েছে সেই একই ছাতার তলায়।
advertisement
শাল মহুয়ার গাছে গাছে ফুল ফুটতে শুরু করলে এ রাজ্যের আদিবাসীরা মেতে ওঠেন বাহা বঙা উৎসবে। আদিবাসীদের দেবতা ‘মারাং বুরু’, ‘জাহের আয়ো’ এবং ‘মড়ে ক তুরুই ক’ র উদ্যেশ্যে নতুন শালফুল নিবেদন করে মাথায় শালফুল গুঁজে নাচে গানে মেতে ওঠেন আদিবাসী নারী-পুরুষেরা। গতকাল রাতে বাঁকুড়ার রানীবাঁধ বাজারে তেমনই বাহা বঙা উৎসবের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় আদিবাসী মানুষেরা। আর সেই উৎসবেই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল রাজনীতির রঙ।
আরও পড়ুন: ৩০ দিনে মোদি ১৪-শাহ ৮ র্যালি! বাংলায় ভোটপ্রচারে ঝড় তুলতে বিজেপির বড় প্ল্যান, কী কী হবে?
উৎসবে হাজির হয়ে নির্দ্বিধায় কাঁধে মাদল তুলে অন্যান্য আদিবাসী পুরুষদের সঙ্গে মাদল বাজাতে শুরু করেন রানীবাঁধ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু। পিছিয়ে থাকলেন না ওই কেন্দ্রেরই তৃণমূল প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদাও। রাজনীতির ময়দানের লড়াই ভুলে পদ্ম প্রার্থীর ধামসা-মাদলের তালে আদিবাসী রমণীদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে নাচ করলেন ঘাসফুল প্রার্থী। একসঙ্গে পাত পেড়ে বসে খেলেন খিচুড়ি প্রসাদ। দুই প্রার্থীরই দাবি, রাজনৈতিক টানাপোড়েন বা মতাদর্শগত লড়াই যাই থাকুক না কেন আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে মিলেমিশে মেতে ওঠাই দস্তুর জঙ্গলমহলে।
প্রিয়ব্রত গোস্বামী
