মূলত ‘কিউটেস্ট’ প্রতিমাকে ঘিরেই এই নতুন ধারা। শিলিগুড়ির কুমোরটুলি থেকে পালপাড়া—সর্বত্রই এখন এই প্রতিমার চাহিদা তুঙ্গে। অনেক ক্রেতাই আবার এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা দেবদেবীর প্রতিচ্ছবি নিয়ে আসছেন শিল্পীদের কাছে। কেউ কেউ সেই অনুযায়ী প্রতিমা তৈরিতে রাজি হচ্ছেন, আবার কেউ ট্রেন্ডে গা ভাসাতে নারাজ।
advertisement
শিল্পীদের কথায়, এই কিউটেস্ট প্রতিমা বানানো মোটেও সহজ কাজ নয়। সাধারণ প্রতিমার তুলনায় এতে সময় ও পরিশ্রম দুটোই অনেক বেশি লাগে। ডাইসের উপর সূক্ষ্ম কাজ, মুখের অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলা, আলাদা রং ও নকশা—সব মিলিয়ে প্রতিটি প্রতিমায় বাড়তি যত্ন দরকার। সেই কারণেই দামও কিছুটা বেশি। এত খাটুনির জন্য প্রতিটি কুমোরটুলিতে একসঙ্গে দু’তিনটির বেশি ‘কিউটেস্ট’ প্রতিমার অর্ডার নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিল্পী সুরজিৎ পালের কথায়, ‘প্রায় ১৫–২০ দিন আগেই তাঁর কাছে একটি কিউটেস্ট সরস্বতী প্রতিমার অর্ডার এসেছে পাহাড়ি এলাকা থেকে। রংটং-এর একটি ক্লাবের জন্য চার হাতের বিশাল আকৃতির কিউটেস্ট বাগদেবী তৈরি করেছেন তিনি।’ সুরজিৎ জানান, ‘গত বছর গণেশ পুজো থেকেই তাঁর কাছে এই ধরনের অর্ডার আসতে শুরু করেছে, আর আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই তাঁর বিশ্বাস। একই সুর শোনা গেল শিল্পী দীপঙ্কর পালের গলাতেও। তিনি জানান, এ বছর দু’টি কিউটেস্ট প্রতিমা তৈরি করেছেন, যার ডিজাইন দিয়েছেন ক্রেতারাই। সময় ও পরিশ্রম বেশি লাগলেও আর্থিক লাভ তুলনামূলকভাবে ভালো। সব মিলিয়ে, এই নতুন ট্রেন্ড শিল্পীদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়েছে। সাধারণ প্রতিমার পাশাপাশি কিউটেস্ট প্রতিমা যেন শিলিগুড়ির পুজোর বাজারে আলাদা জায়গা করে নিচ্ছে—সমতল থেকে পাহাড়, সর্বত্রই যার চাহিদা বাড়ছে।’





